Dhaka ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় সাংবাদিকের বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুট চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় আত্মীয় পরিচয়ে এক সাংবাদিকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অভিনব কায়দায় স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে পালিয়ে যাওয়া চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভাঙ্গা জাঙ্গাল গ্রামের ইয়াসমিন খাতুন (২৮), তাঁর স্বামী আবদুল আলিম (২৮) ও বাবা খলিলুর রহমান (৪৮)।

​তবে চুরি হওয়া সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আজ রোববার দুপুরে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

​মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় ইয়াসমিন খাতুন ও তাঁর স্বামী আবদুল আলিম এক বছরের এক শিশুসন্তানকে নিয়ে বাগমারা গ্রামে সাংবাদিক মামুনুর রশিদের বাড়িতে আসেন। তাঁরা নিজেদের প্রয়াত পুলিশ সদস্যের (সাংবাদিক মামুনের বড় ভাই) আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আশ্রয় নেন। ওই পরিবারের গৃহিণী রাহামা বিবি সরল বিশ্বাসে তাঁদের ঘরে থাকতে দেন।

​পরদিন সকালে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাহামা বিবি দেখতে পান, ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের তালা খুলে সেখানে থাকা তাঁর ও তাঁর মেয়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণের গহনা নিয়ে কেটে পড়েছে চক্রটি। এরপর থেকে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

​এ ঘটনায় মামলা হলে প্রযুক্তির সহায়তায় বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দীন ও রফিকুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে নাটোর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেন।

​ভুক্তভোগী রাহামা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর পেনশনের টাকা দিয়ে কলেজে পড়ুয়া মেয়ের জন্য গহনা বানিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার নিজের গহনাও ছিল। আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে প্রতারক চক্রটি সবশেষ করে দিল।”

​বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে বেশ সক্রিয়। গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় এসে একই উপায়ে প্রতারিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চুরি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া একই ধরনের আরো ঘটনা ঘটিয়েছে।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, মামলার ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বাগমারায় সাংবাদিকের বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুট চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

Update Time : ০১:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় আত্মীয় পরিচয়ে এক সাংবাদিকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অভিনব কায়দায় স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে পালিয়ে যাওয়া চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভাঙ্গা জাঙ্গাল গ্রামের ইয়াসমিন খাতুন (২৮), তাঁর স্বামী আবদুল আলিম (২৮) ও বাবা খলিলুর রহমান (৪৮)।

​তবে চুরি হওয়া সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আজ রোববার দুপুরে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

​মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় ইয়াসমিন খাতুন ও তাঁর স্বামী আবদুল আলিম এক বছরের এক শিশুসন্তানকে নিয়ে বাগমারা গ্রামে সাংবাদিক মামুনুর রশিদের বাড়িতে আসেন। তাঁরা নিজেদের প্রয়াত পুলিশ সদস্যের (সাংবাদিক মামুনের বড় ভাই) আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আশ্রয় নেন। ওই পরিবারের গৃহিণী রাহামা বিবি সরল বিশ্বাসে তাঁদের ঘরে থাকতে দেন।

​পরদিন সকালে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাহামা বিবি দেখতে পান, ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের তালা খুলে সেখানে থাকা তাঁর ও তাঁর মেয়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণের গহনা নিয়ে কেটে পড়েছে চক্রটি। এরপর থেকে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

​এ ঘটনায় মামলা হলে প্রযুক্তির সহায়তায় বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দীন ও রফিকুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে নাটোর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেন।

​ভুক্তভোগী রাহামা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর পেনশনের টাকা দিয়ে কলেজে পড়ুয়া মেয়ের জন্য গহনা বানিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার নিজের গহনাও ছিল। আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে প্রতারক চক্রটি সবশেষ করে দিল।”

​বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে বেশ সক্রিয়। গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় এসে একই উপায়ে প্রতারিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চুরি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া একই ধরনের আরো ঘটনা ঘটিয়েছে।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, মামলার ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

Bangla Photocard Generatorv3.7