Dhaka ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্তানদের হাতে প্রয়োজন ছাড়া স্মার্টফোন না দিয়ে বই পড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে : বিভাগীয় কমিশনার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৮:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মেধাবী, সৃজনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশু-কিশোরদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও অভিভাবকদের সন্তানদের হাতে প্রয়োজন ছাড়া স্মার্টফোন না দিয়ে বই পড়া, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের আওতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বজলুর রশীদ বলেন, করোনা মহামারির সময় শিক্ষার প্রয়োজনে শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ব্যবহার তাদের মনোযোগ, পাঠাভ্যাস, চিন্তাশক্তি ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই পরিবার থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এবং কীভাবে সময় ব্যয় করছে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনীয় আড্ডার পরিবর্তে তাদের পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পাঠাভ্যাসভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, অন্তত ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে; তবে সারাক্ষণ ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহার পরিহার করা উচিত।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহীকে একটি জ্ঞান, সংস্কৃতি ও পাঠ চর্চা নির্ভর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে গণগ্রন্থাগারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত পাঠ, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ জন্য তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতিকর্মী, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মু. বিল্লাল হোসেন খান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সঞ্জীব সূত্রধর। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এর আগে রাজশাহী সরকারি গণগ্রন্থাগার চত্বরে বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে একই স্থান হতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গণগ্রন্থাগার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এর পর অতিথিবৃন্দ ভ্রাম্যমান বইমেলা পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠান শেষে একই স্থানে সংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।


Post Views: 68

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সন্তানদের হাতে প্রয়োজন ছাড়া স্মার্টফোন না দিয়ে বই পড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে : বিভাগীয় কমিশনার

Update Time : ১১:১৮:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মেধাবী, সৃজনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশু-কিশোরদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও অভিভাবকদের সন্তানদের হাতে প্রয়োজন ছাড়া স্মার্টফোন না দিয়ে বই পড়া, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের আওতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বজলুর রশীদ বলেন, করোনা মহামারির সময় শিক্ষার প্রয়োজনে শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ব্যবহার তাদের মনোযোগ, পাঠাভ্যাস, চিন্তাশক্তি ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই পরিবার থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এবং কীভাবে সময় ব্যয় করছে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনীয় আড্ডার পরিবর্তে তাদের পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পাঠাভ্যাসভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, অন্তত ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে; তবে সারাক্ষণ ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহার পরিহার করা উচিত।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহীকে একটি জ্ঞান, সংস্কৃতি ও পাঠ চর্চা নির্ভর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে গণগ্রন্থাগারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত পাঠ, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ জন্য তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতিকর্মী, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মু. বিল্লাল হোসেন খান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সঞ্জীব সূত্রধর। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এর আগে রাজশাহী সরকারি গণগ্রন্থাগার চত্বরে বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে একই স্থান হতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গণগ্রন্থাগার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এর পর অতিথিবৃন্দ ভ্রাম্যমান বইমেলা পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠান শেষে একই স্থানে সংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।


Post Views: 68

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7