Dhaka ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্ভব : রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহীর ডিসি অফিসের পাশেই মাদকের আখড়া নবনিযুক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসকের ফুলেল শুভেচ্ছা নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ মাদক ব্যবসায়ী, ৪ মাদকসেবী গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন নিয়ামতপুরে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত মিথিলার পর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধি সামিরা তথ্য ও পরিসংখ্যান একটি সরকারের ব্যালেন্স শিটের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ : অর্থমন্ত্রী ঋতুস্রাবের সময় যেভাবে স্ত্রী রাশমিকার যত্ন নেন বিজয়

রাজশাহীর ডিসি অফিসের পাশেই মাদকের আখড়া

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের পাশেই চলছে মাদকের কারবার। চায়ের দোকানের আড়ালে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনেরমাদক। কার্যালয়ের আশপাশে মাদক সেবনের চিত্রও নিয়মিত। ড্রেনগুলোয় চোখ দিলেই মিলছে ফেনসিডিলের খালি বোতল।

সম্প্রতি ডিসি অফিসের পাশের একটি চায়ের দোকান থেকে ৯০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক দোকানিকে গ্রেপ্তার করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কর্মকর্তারা। তবে ওই দোকানি গ্রেপ্তার হলেও বন্ধ হয়নি মাদকের কারবার।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন (৩৭)। ডিসি অফিসের পাশেই একটি চায়ের দোকান চালান তিনি। চায়ের দোকানের আড়ালে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও ফেনসিডিল বিক্রি করতেন জাকির। তাঁর বাড়ি নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানার আদর্শগ্রামে। বাবার নাম শামিম শেখ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাঁর দোকানটির দূরত্ব বড়জোর ২০০ গজ। গত ১ নভেম্বর ওই দোকান থেকেই ৯০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের পশ্চিম দেয়াল ঘেঁষে টিনশেডের দোকানটি অবস্থিত। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে এর অবস্থান। কিছুটা দূরেই রাজশাহীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়। পুলিশ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন জাকির। এর আগেও একবার মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে টিনশেডের একতলা একটি ভবন। সেখানে রয়েছে তিনটি দোকান। প্রথম দোকানটিতে স্ট্যাম্প বিক্রি করা হয়। মাঝের দোকানটি জাকিরের চায়ের দোকান। শেষেরটিতে কয়েকজনের ব্যক্তিগত চেম্বার।

এর পাশের গলিতে সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়সংলগ্ন আরেকটি চায়ের দোকান রয়েছে। দুলাল নামের এক ব্যক্তি দোকানটি পরিচালনা করেন। দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়া ড্রেনে পড়ে আছে ফেনসিডিলের অসংখ্য খালি বোতল। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেখানে দিন-রাত মাদক সেবন চলে।

কয়েকজন দলিল লেখকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একতলা টিনশেডের ভবনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে সেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব দোকান ও চেম্বার ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। চায়ের দোকানি জাকিরের নেতৃত্বে সেখানে মাদকের কারবার চলত।

তাঁরা জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এত কাছে হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও নিয়মিত হয় না বলে তাঁদের অভিযোগ। জাকির গ্রেপ্তার হলেও ওই এলাকায় মাদকের কারবার বন্ধ হয়নি। এখনো কয়েকজন এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি তাঁদের।

জাকির কারাগারে থাকলেও খোলা রয়েছে তাঁর চায়ের দোকান। রোববার সেখানে কর্মচারীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাতিজা মো. আশিক। তাঁরা জানান, জাকির কারাগারে থাকায় তাঁরাই দোকানটি পরিচালনা করছেন। জাকির ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন বলেও স্বীকার করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, দোকানটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেই ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কোনো দোকান ভাড়া দেওয়া হয়নি। তিনি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সরেজমিনে বিষয়গুলো দেখে আসতে বলবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্ভব : রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার

রাজশাহীর ডিসি অফিসের পাশেই মাদকের আখড়া

Update Time : ০৫:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের পাশেই চলছে মাদকের কারবার। চায়ের দোকানের আড়ালে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনেরমাদক। কার্যালয়ের আশপাশে মাদক সেবনের চিত্রও নিয়মিত। ড্রেনগুলোয় চোখ দিলেই মিলছে ফেনসিডিলের খালি বোতল।

সম্প্রতি ডিসি অফিসের পাশের একটি চায়ের দোকান থেকে ৯০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক দোকানিকে গ্রেপ্তার করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কর্মকর্তারা। তবে ওই দোকানি গ্রেপ্তার হলেও বন্ধ হয়নি মাদকের কারবার।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন (৩৭)। ডিসি অফিসের পাশেই একটি চায়ের দোকান চালান তিনি। চায়ের দোকানের আড়ালে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও ফেনসিডিল বিক্রি করতেন জাকির। তাঁর বাড়ি নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানার আদর্শগ্রামে। বাবার নাম শামিম শেখ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাঁর দোকানটির দূরত্ব বড়জোর ২০০ গজ। গত ১ নভেম্বর ওই দোকান থেকেই ৯০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের পশ্চিম দেয়াল ঘেঁষে টিনশেডের দোকানটি অবস্থিত। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে এর অবস্থান। কিছুটা দূরেই রাজশাহীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়। পুলিশ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন জাকির। এর আগেও একবার মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে টিনশেডের একতলা একটি ভবন। সেখানে রয়েছে তিনটি দোকান। প্রথম দোকানটিতে স্ট্যাম্প বিক্রি করা হয়। মাঝের দোকানটি জাকিরের চায়ের দোকান। শেষেরটিতে কয়েকজনের ব্যক্তিগত চেম্বার।

এর পাশের গলিতে সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়সংলগ্ন আরেকটি চায়ের দোকান রয়েছে। দুলাল নামের এক ব্যক্তি দোকানটি পরিচালনা করেন। দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়া ড্রেনে পড়ে আছে ফেনসিডিলের অসংখ্য খালি বোতল। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেখানে দিন-রাত মাদক সেবন চলে।

কয়েকজন দলিল লেখকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একতলা টিনশেডের ভবনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে সেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব দোকান ও চেম্বার ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। চায়ের দোকানি জাকিরের নেতৃত্বে সেখানে মাদকের কারবার চলত।

তাঁরা জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এত কাছে হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও নিয়মিত হয় না বলে তাঁদের অভিযোগ। জাকির গ্রেপ্তার হলেও ওই এলাকায় মাদকের কারবার বন্ধ হয়নি। এখনো কয়েকজন এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি তাঁদের।

জাকির কারাগারে থাকলেও খোলা রয়েছে তাঁর চায়ের দোকান। রোববার সেখানে কর্মচারীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাতিজা মো. আশিক। তাঁরা জানান, জাকির কারাগারে থাকায় তাঁরাই দোকানটি পরিচালনা করছেন। জাকির ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন বলেও স্বীকার করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, দোকানটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেই ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কোনো দোকান ভাড়া দেওয়া হয়নি। তিনি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সরেজমিনে বিষয়গুলো দেখে আসতে বলবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Bangla Photocard Generatorv3.7