Dhaka ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান আইনমন্ত্রীর সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্কাউটিংয়ের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: আসাদুল হাবিব দুলু শাহ মখদুম (রহ.) ক্বারিয়ানা, হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রিটনের নিরাপত্তা জোরদারে নওগাঁ সীমান্তে নতুন ৩ বিজিবি ক্যাম্প রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নতুন আমীরের শপথ গ্রহণ নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৯ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক

ধর্ষণের ১৫ মিনিটের মধ্যেই হত্যা করা হয় শিশু কলিকে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮৭ Time View

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, মাগরিবের নামাজের জায়নামাজ থেকে ওঠার পরই শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নাটকেও অংশ নেন তিনি।

‎পুলিশ বলছে, ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে মোস্তফা আবার তার মুদি দোকান খোলেন এবং রক্তমাখা শরীর নিয়ে গোসল করেন। রিমান্ডে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে দুজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা বলেছেন তিনি। তবে অপর আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি শুধু ওই কাজে সহযোগিতা করেছেন শুধু।

‎গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‎মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই (নি.) বেনু রায় পিপিএম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত দুজনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের আটক করার সময় মোস্তফার আচরণেও পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়।

‎তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম সামনে আসে। এরপর স্থানীয় একজন মেম্বারকে বলা হয়, তাকে গিয়ে দেখার জন্য। মেম্বার গিয়ে তার এক হাত ধরার পর তিনি কাঁপতে শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তার বুকে কান দিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং তাকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়।

‎বেনু রায় বলেন, এরপর তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে মোস্তফা নিহত শিশুটির বাবার সঙ্গে মিশে ছিলেন। কলির পরিবারের সঙ্গে গভীর রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কলির নিখোঁজের বিষয়ে খোঁজ-খবরও রাখতেন। এমনকি কলির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও তিনি অংশ নিয়েছেন। এছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময়ও সাংবাদিক ও পুলিশের পাশেই অবস্থান করছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

‎তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলি তার ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। ওই সময় মোস্তফা তার মোবাইল ফোনে শিশুটির একাধিক অসঙ্গতিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গিতে ছবি তোলেন। পরে ফোনটি পরীক্ষা করে এসব ছবি উদ্ধার করা হয় বলে দাবি পুলিশের। এরপর সন্ধ্যার সময় স্থানীয় সাহেব আলীর ছেলের সঙ্গে মোস্তফার দোকানের সামনে কলি বসেছিলেন। পরে সাহেবের স্ত্রী খুশি খাতুন তার সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে চলে যান। এসময় তিনি মোস্তফাকে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে দেখে যান। কলিও দোকানের সামনে বেঞ্চের ওপর বসেছিল। নামাজ পরেই তাকে মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন। এর ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেন তিনি।

‎বেনু রায় আরও বলেন, মোস্তফার মোবাইল ফোনে তার দোকানে আসা বিভিন্ন উঠতি বয়সী ছোট মেয়েরও আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা অসংখ্য ছবি পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য, এতে তার আগের আচরণ সম্পর্কেও তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। তিনি আগে থেকেই দুশ্চরিত্র ব্যক্তি।

‎তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্ত কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন শুধু ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কিছু পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া বাকি। তাছাড়া সব আর কোনো কাজ নেই।

‎তিনি বলেন, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশুর সব আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হবে। সেখান থেকে ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে ধর্ষণের ঘটনায় দুজন জড়িত ছিলেন, নাকি একজন। এরপর দুই আসামির ফরেনসিক প্রতিবেদনও পরীক্ষা করা হবে।

‎বেনু রায়ের তথ্য অনুযায়ী, মোস্তফা বলছে দুজন মিলে ধর্ষণ করেছে। আর ইয়াসিন বলছে, সে ধর্ষণ ও হত্যার কোনোটির সঙ্গেই জড়িত নয়। হত্যার পর মোস্তফা সহযোগিতা চেয়েছিল, তাই সে কিছুটা সহযোগিতা করেছে। ফরেনসিক প্রতিবেদনে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

‎তদন্ত কর্মকর্তা জানান, দুটি ভিন্ন ব্যক্তির বীর্যের আলামত পাওয়া গেলে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় তা নিশ্চিত হলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে দাখিল করা সম্ভব হবে। এতো দ্রুত চাঞ্চল্যকর এ মামলার ডিটেকটিভ হওয়ায় পুলিশের বড় একটি সাফল্য বলে মনে করেন তিনি।

‎এরআগে পুলিশ জানিয়েছিল, কলিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মরদেহের দুর্গন্ধে ও কুকুর তাড়া করলে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়াতে মরদেহ বাইরে নিতে পারেননি।

পরদিন মরদেহের দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা টের পেয়ে পুলিশের খবর দেন। পুলিশ গিয়ে টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণ প্রমাণ হয়। এরপর দুজনকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের কাছে ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও দ্রুত স্বীকার করায় রিমান্ড আগেই শেষ হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ৩ দিন ধরে নিহতের বাড়িটি ভাঙচুর করছে উৎসুক জনতা। প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িটি ভাঙচুর হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও সাতদিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দাবিতে রোববার দুপুরে পাবনা আদালত ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে নিহতের স্বজন ও সাধারণ জনগণ। মামলার কালক্ষেপণ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ধর্ষণের ১৫ মিনিটের মধ্যেই হত্যা করা হয় শিশু কলিকে

Update Time : ০৮:১৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, মাগরিবের নামাজের জায়নামাজ থেকে ওঠার পরই শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নাটকেও অংশ নেন তিনি।

‎পুলিশ বলছে, ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে মোস্তফা আবার তার মুদি দোকান খোলেন এবং রক্তমাখা শরীর নিয়ে গোসল করেন। রিমান্ডে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে দুজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা বলেছেন তিনি। তবে অপর আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি শুধু ওই কাজে সহযোগিতা করেছেন শুধু।

‎গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‎মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই (নি.) বেনু রায় পিপিএম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত দুজনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের আটক করার সময় মোস্তফার আচরণেও পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়।

‎তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম সামনে আসে। এরপর স্থানীয় একজন মেম্বারকে বলা হয়, তাকে গিয়ে দেখার জন্য। মেম্বার গিয়ে তার এক হাত ধরার পর তিনি কাঁপতে শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তার বুকে কান দিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং তাকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়।

‎বেনু রায় বলেন, এরপর তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে মোস্তফা নিহত শিশুটির বাবার সঙ্গে মিশে ছিলেন। কলির পরিবারের সঙ্গে গভীর রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কলির নিখোঁজের বিষয়ে খোঁজ-খবরও রাখতেন। এমনকি কলির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও তিনি অংশ নিয়েছেন। এছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময়ও সাংবাদিক ও পুলিশের পাশেই অবস্থান করছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

‎তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলি তার ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। ওই সময় মোস্তফা তার মোবাইল ফোনে শিশুটির একাধিক অসঙ্গতিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গিতে ছবি তোলেন। পরে ফোনটি পরীক্ষা করে এসব ছবি উদ্ধার করা হয় বলে দাবি পুলিশের। এরপর সন্ধ্যার সময় স্থানীয় সাহেব আলীর ছেলের সঙ্গে মোস্তফার দোকানের সামনে কলি বসেছিলেন। পরে সাহেবের স্ত্রী খুশি খাতুন তার সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে চলে যান। এসময় তিনি মোস্তফাকে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে দেখে যান। কলিও দোকানের সামনে বেঞ্চের ওপর বসেছিল। নামাজ পরেই তাকে মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন। এর ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেন তিনি।

‎বেনু রায় আরও বলেন, মোস্তফার মোবাইল ফোনে তার দোকানে আসা বিভিন্ন উঠতি বয়সী ছোট মেয়েরও আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা অসংখ্য ছবি পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য, এতে তার আগের আচরণ সম্পর্কেও তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। তিনি আগে থেকেই দুশ্চরিত্র ব্যক্তি।

‎তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্ত কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন শুধু ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কিছু পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া বাকি। তাছাড়া সব আর কোনো কাজ নেই।

‎তিনি বলেন, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশুর সব আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হবে। সেখান থেকে ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে ধর্ষণের ঘটনায় দুজন জড়িত ছিলেন, নাকি একজন। এরপর দুই আসামির ফরেনসিক প্রতিবেদনও পরীক্ষা করা হবে।

‎বেনু রায়ের তথ্য অনুযায়ী, মোস্তফা বলছে দুজন মিলে ধর্ষণ করেছে। আর ইয়াসিন বলছে, সে ধর্ষণ ও হত্যার কোনোটির সঙ্গেই জড়িত নয়। হত্যার পর মোস্তফা সহযোগিতা চেয়েছিল, তাই সে কিছুটা সহযোগিতা করেছে। ফরেনসিক প্রতিবেদনে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

‎তদন্ত কর্মকর্তা জানান, দুটি ভিন্ন ব্যক্তির বীর্যের আলামত পাওয়া গেলে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় তা নিশ্চিত হলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে দাখিল করা সম্ভব হবে। এতো দ্রুত চাঞ্চল্যকর এ মামলার ডিটেকটিভ হওয়ায় পুলিশের বড় একটি সাফল্য বলে মনে করেন তিনি।

‎এরআগে পুলিশ জানিয়েছিল, কলিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মরদেহের দুর্গন্ধে ও কুকুর তাড়া করলে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়াতে মরদেহ বাইরে নিতে পারেননি।

পরদিন মরদেহের দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা টের পেয়ে পুলিশের খবর দেন। পুলিশ গিয়ে টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণ প্রমাণ হয়। এরপর দুজনকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের কাছে ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও দ্রুত স্বীকার করায় রিমান্ড আগেই শেষ হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ৩ দিন ধরে নিহতের বাড়িটি ভাঙচুর করছে উৎসুক জনতা। প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িটি ভাঙচুর হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও সাতদিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দাবিতে রোববার দুপুরে পাবনা আদালত ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে নিহতের স্বজন ও সাধারণ জনগণ। মামলার কালক্ষেপণ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

Bangla Photocard Generatorv3.7