Dhaka ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
৫০ বছরের ছোট নায়িকার সঙ্গে জুটি বাঁধছেন রজনীকান্ত পরিচালকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, যা বললেন দীঘি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন রোনালদো তানজিন তিশার সদস্যপদ স্থগিত করলো অভিনয়শিল্পী সংঘ চিকিৎসার অজুহাতে ডাক্তারকে ফ্ল্যাটে ডেকে যা করলেন অভিনেত্রী টিভিতে আজকের খেলা – সময়ের কথা ২৪ রাজধানীতে চালু হচ্ছে দুটি মনোরেল, চলবে যেসব রুটে স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান আইনমন্ত্রীর সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্কাউটিংয়ের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: আসাদুল হাবিব দুলু

হিমাগারে আলু সংরক্ষণে প্রতি কেজি ভাড়া সর্বোচ্চ ৪ টাকা নির্ধারণের দাবি চাষি-ব্যবসায়ীদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : বাম্পার ফলনের পরও যদি আলু সংরক্ষণের খরচই কৃষকের লাভ গিলে খায়, তাহলে উৎপাদনের উৎসাহ টিকিয়ে রাখা কঠিন—এমন আশঙ্কা জানিয়ে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৪ টাকা নির্ধারণের জোরালো দাবি তুলেছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন না করেই হিমাগার মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাই সরকারের প্রতি দ্রুত যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ এবং কৃষক-ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে চাষি-ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তুলে ধরেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা। অথচ ২০২৫ সালে সেটি এক লাফে ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকায় উন্নীত করা হয়। এ অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর থেকেই তারা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সংবাদ সম্মেলনে হিমাগার মালিক সংগঠনের দাবি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, গত শনিবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশ হিমাগার মালিক অ্যাসোসিয়েশন আলু সংরক্ষণ ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। অথচ সরকার বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার পরও হিমাগার মালিকদের সংগঠন প্রকৃত ব্যয়ের কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-উপাত্ত বা দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই বেশি ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। সেই বক্তব্য পর্যালোচনা করেই কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থান স্পষ্ট করতে তারা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। হিমাগার মালিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, সরকারি সুপারিশ কমিটির কাছে পরিচালন ব্যয়ের গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ কেন উপস্থাপন করা হয়নি। তাঁর দাবি, প্রকৃত ব্যয় গোপন রেখে বা অতিরঞ্জিত ব্যয় দেখিয়ে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, দেশে প্রায় ৪০০টি হিমাগার রয়েছে। প্রতিটি হিমাগার যদি ১ কোটি টাকা করে তহবিল গঠন করে, তাহলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০০ কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের অপব্যবহার হলে তা কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দীর্ঘদিন ধরে চলা ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের পর বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। পরে জেলা প্রশাসন এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উদ্যোগে আলু উৎপাদনকারী জেলার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় হিমাগারের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়। তিনি জানান, রাজশাহীর সুপারিশ কমিটি কয়েকটি হিমাগার পরিদর্শনে গেলেও আগাম অবহিত করার পরও মালিকপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি। বরং অসহযোগিতার কারণে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ ব্যাহত হয়। এমন পরিস্থিতিতে কমিটির আহ্বায়ক মন্তব্য করেছিলেন, “এখানে মনে হচ্ছে হিমাগার মালিকরা জমিদার, আর আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা তাদের প্রজা।” তিনি আরও বলেন, পরে জেলার সব হিমাগারকে পরিচালন ব্যয়ের তথ্য জমা দিতে চিঠি দেওয়া হয়। ২৬টি হিমাগার তথ্য জমা দিলেও বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, বেতন ভাউচার, লুব্রিকেন্ট ক্রয়ের রসিদসহ কোনো দালিলিক প্রমাণ দেয়নি। ফলে রাজশাহীর প্রকৃত পরিচালন ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি সুপারিশ কমিটির কাছে হিমাগারের পরিচালন ব্যয়ের গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ কেন জমা দেওয়া হয়নি সে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, প্রকৃত ব্যয় গোপন রেখে বা অতিরঞ্জিত ব্যয় দেখিয়ে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। ইফতেখারুল ইসলাম ডনির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ অবস্থায় সুপারিশ কমিটিকে নিজস্ব অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যয়ের একটি ধারণা নিতে হয়েছে। প্রতিবেদনে বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলার ব্যয়ের তথ্য থাকলেও রাজশাহীর প্রকৃত ব্যয় উল্লেখ করা যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, অন্যান্য জেলায় প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ব্যয় ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৩৮ পয়সা উল্লেখ করা হলেও সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সমিতির দাবি, প্রকৃত পরিচালন ব্যয় প্রতি কেজিতে ২ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। সে হিসেবে প্রতি কেজিতে ৪ টাকার বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তা কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অন্যায্য ও অযৌক্তিক হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সরকারের প্রতি প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া সর্বোচ্চ ৪ টাকা নির্ধারণ, হিমাগারগুলোর প্রকৃত পরিচালন ব্যয় স্বাধীনভাবে যাচাই এবং কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভোক্তার স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অধিক ভাড়া নির্ধারণের যে দাবি করা হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় ভাড়া নির্ধারণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতারা।


Post Views: 68

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

৫০ বছরের ছোট নায়িকার সঙ্গে জুটি বাঁধছেন রজনীকান্ত

হিমাগারে আলু সংরক্ষণে প্রতি কেজি ভাড়া সর্বোচ্চ ৪ টাকা নির্ধারণের দাবি চাষি-ব্যবসায়ীদের

Update Time : ০২:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : বাম্পার ফলনের পরও যদি আলু সংরক্ষণের খরচই কৃষকের লাভ গিলে খায়, তাহলে উৎপাদনের উৎসাহ টিকিয়ে রাখা কঠিন—এমন আশঙ্কা জানিয়ে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৪ টাকা নির্ধারণের জোরালো দাবি তুলেছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন না করেই হিমাগার মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাই সরকারের প্রতি দ্রুত যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ এবং কৃষক-ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে চাষি-ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তুলে ধরেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা। অথচ ২০২৫ সালে সেটি এক লাফে ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকায় উন্নীত করা হয়। এ অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর থেকেই তারা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সংবাদ সম্মেলনে হিমাগার মালিক সংগঠনের দাবি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, গত শনিবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশ হিমাগার মালিক অ্যাসোসিয়েশন আলু সংরক্ষণ ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। অথচ সরকার বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার পরও হিমাগার মালিকদের সংগঠন প্রকৃত ব্যয়ের কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-উপাত্ত বা দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই বেশি ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। সেই বক্তব্য পর্যালোচনা করেই কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থান স্পষ্ট করতে তারা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। হিমাগার মালিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, সরকারি সুপারিশ কমিটির কাছে পরিচালন ব্যয়ের গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ কেন উপস্থাপন করা হয়নি। তাঁর দাবি, প্রকৃত ব্যয় গোপন রেখে বা অতিরঞ্জিত ব্যয় দেখিয়ে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, দেশে প্রায় ৪০০টি হিমাগার রয়েছে। প্রতিটি হিমাগার যদি ১ কোটি টাকা করে তহবিল গঠন করে, তাহলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০০ কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের অপব্যবহার হলে তা কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দীর্ঘদিন ধরে চলা ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের পর বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। পরে জেলা প্রশাসন এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উদ্যোগে আলু উৎপাদনকারী জেলার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় হিমাগারের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়। তিনি জানান, রাজশাহীর সুপারিশ কমিটি কয়েকটি হিমাগার পরিদর্শনে গেলেও আগাম অবহিত করার পরও মালিকপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি। বরং অসহযোগিতার কারণে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ ব্যাহত হয়। এমন পরিস্থিতিতে কমিটির আহ্বায়ক মন্তব্য করেছিলেন, “এখানে মনে হচ্ছে হিমাগার মালিকরা জমিদার, আর আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা তাদের প্রজা।” তিনি আরও বলেন, পরে জেলার সব হিমাগারকে পরিচালন ব্যয়ের তথ্য জমা দিতে চিঠি দেওয়া হয়। ২৬টি হিমাগার তথ্য জমা দিলেও বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, বেতন ভাউচার, লুব্রিকেন্ট ক্রয়ের রসিদসহ কোনো দালিলিক প্রমাণ দেয়নি। ফলে রাজশাহীর প্রকৃত পরিচালন ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি সুপারিশ কমিটির কাছে হিমাগারের পরিচালন ব্যয়ের গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ কেন জমা দেওয়া হয়নি সে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, প্রকৃত ব্যয় গোপন রেখে বা অতিরঞ্জিত ব্যয় দেখিয়ে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। ইফতেখারুল ইসলাম ডনির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ অবস্থায় সুপারিশ কমিটিকে নিজস্ব অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যয়ের একটি ধারণা নিতে হয়েছে। প্রতিবেদনে বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলার ব্যয়ের তথ্য থাকলেও রাজশাহীর প্রকৃত ব্যয় উল্লেখ করা যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, অন্যান্য জেলায় প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ব্যয় ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৩৮ পয়সা উল্লেখ করা হলেও সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সমিতির দাবি, প্রকৃত পরিচালন ব্যয় প্রতি কেজিতে ২ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। সে হিসেবে প্রতি কেজিতে ৪ টাকার বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তা কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অন্যায্য ও অযৌক্তিক হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সরকারের প্রতি প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া সর্বোচ্চ ৪ টাকা নির্ধারণ, হিমাগারগুলোর প্রকৃত পরিচালন ব্যয় স্বাধীনভাবে যাচাই এবং কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভোক্তার স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অধিক ভাড়া নির্ধারণের যে দাবি করা হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় ভাড়া নির্ধারণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতারা।


Post Views: 68

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7