Dhaka ০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নগরীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৩ এগ্রোইকোলজির প্রসার ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের আহ্বান নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৫ ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা কমাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙ্গায় মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষকরাই গড়তে পারে আগামীর বাংলাদেশ : শিক্ষামন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমিউনিটি ডায়লগ রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে মাদকদ্রব্য জব্দ লালপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু নগরীতে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৮

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আসছেন ধনুশ? – সময়ের কথা ২৪

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৮:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৬ Time View






অনলাইন ডেস্ক : তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অভিনেতা বিজয়ের সাফল্যের পর এবার আলোচনায় উঠে এসেছে আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা ধনুশের নাম। রাজনীতিতে তার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে) ধনুশকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) তাকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করতে আগ্রহী নয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, ধনুশকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিজেপি ও আরএসএস।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি ধনুশ। নতুন রাজনৈতিক দল গঠন কিংবা বিদ্যমান কোনো দলে যোগ দেওয়ার বিষয়েও ঘোষণা আসেনি তার পক্ষ থেকে।

বিজয়ের সাফল্যের পর বাড়ছে জল্পনা

২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন অভিনেতা বিজয়। ২০২৬ সালের মার্চে তিনি জানান, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনেই প্রার্থী দেবে তার দল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয় পায় টিভিকে। এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও জোট সরকার গঠন করে দলটি। ওই বছরের মে মাসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন বিজয়।

প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই একজন চলচ্চিত্র তারকার এমন সাফল্য তামিল চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার আলোচনা উসকে দিয়েছে। এখন বড় তারকাদের কাছে প্রায়ই জানতে চাওয়া হচ্ছে, বিজয় রাজনীতিতে সফল হলে অন্যরা কেন পারবেন না? ধনুশও সেই আলোচনার বাইরে থাকছেন না।

ভক্তদের পতাকা ও বাবার মন্তব্য

ধনুশকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা জোরালো হয় জুলাইয়ে। সে সময় তার ভক্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি পতাকা উন্মোচন করা হয়। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে পতাকার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। অতীতে চলচ্চিত্র তারকাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরুর ক্ষেত্রেও ভক্ত সংগঠনের পতাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে ধনুশের ভক্ত সংগঠনের পতাকা উন্মোচনকে তার নিজস্ব রাজনৈতিক পতাকা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অভিনেতার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

জুনের শুরুতে চেন্নাইয়ের একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ধনুশের বাবা কস্তুরী রাজাকে ছেলের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, যে কেউ রাজনীতিতে আসতে পারেন। তার ছেলেরা এমনকি নাতিরাও রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। সরাসরি সম্মতি না জানালেও তিনি সম্ভাবনাটি উড়িয়ে দেননি।

জনকল্যাণমূলক কাজের আহ্বান

২০২৬ সালের ২৬ জুলাই চেন্নাইয়ে ভক্তদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেন ধনুশ। তার সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি বহু মানুষের এক জায়গায় একত্র হওয়ার শক্তির কথা তুলে ধরেন। এই ঐক্যকে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। শুধু সিনেমার অডিও প্রকাশের অনুষ্ঠান কিংবা ভক্তদের মিলনমেলায় সীমাবদ্ধ না থেকে আরও বেশি জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান অভিনেতা।

বক্তব্যে অজিত কুমারের কথাও উল্লেখ করেন ধনুশ। এ সময় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকে তার বক্তব্যের সঙ্গে বিজয়ের ‘লিও’ ছবির অডিও প্রকাশ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণের তুলনা করেন। এক ভক্তের মতে, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে বিজয়ের বক্তব্যের সঙ্গে ধনুশের ভাষণের মিল রয়েছে। অন্য এক ভক্ত ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে রসিকতা করেন।

তবে জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানোকে রাজনীতিতে প্রবেশের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনেক তারকাই সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা বলেন। তারপরও বক্তব্যের সময় ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ধনুশের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা আরও বাড়িয়েছে।

ভক্ত সংগঠনের নাম পরিবর্তন

অক্টোবরে ধনুশের ভক্ত সংগঠনের নাম বদলে দেওয়া হয়। আগে সংগঠনটির নাম ছিল ‘ধনুশ নর্পানি মন্দ্রম’। নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘ধনুশ নর্পানি ইয়াক্কাম’, যার অর্থ ধনুশ জনকল্যাণ আন্দোলন।

২৬ অক্টোবর চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে থোরাইপাক্কামের একটি বেসরকারি কলেজে সংগঠনটির নারী শাখার সভা হয়। এতে প্রায় তিন হাজার সদস্য অংশ নেন। ধনুশ প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন এবং উপস্থিত সদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

অনুষ্ঠানের ৪৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার সংগঠন। মঞ্চের পেছনে থাকা ব্যানারে ধুতি ও শার্ট পরা ধনুশের ছবি দেখা যায়। অন্য ছবিতে তাকে হাত নাড়তে ও হাতজোড় করতে দেখা গেছে। এসব ভঙ্গিকে অনেকের কাছে রাজনৈতিক নেতার আচরণের মতো মনে হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সদস্যদের রুপার কামাক্ষী প্রদীপ উপহার দেন ধনুশ। প্রদীপগুলোতে পদ্মফুলের নকশা খোদাই করা ছিল। পদ্মফুল বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ধনুশের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।

রাজনীতি নিয়ে কী বললেন ধনুশ?

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকেরা রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ধনুশের কাছে জানতে চান। তবে প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান তিনি।

তার এই প্রতিক্রিয়ায় রাজনীতিতে প্রবেশের জল্পনা যেমন বন্ধ হয়নি, তেমনি বিষয়টি নিশ্চিতও হয়নি। ফলে রাজনীতিতে ধনুশের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ধনুশকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া

টিভিকে: ক্ষমতাসীন দলটি ধনুশের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে চাইছে না। দলের সাধারণ সম্পাদক আধব অর্জুনের দাবি, দিল্লির শীর্ষ নেতারা নতুন রাজনৈতিক মুখ সামনে আনার চেষ্টা করছেন। অর্থমন্ত্রী এন মারি উইলসনের মতে, ধনুশ কখনোই মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারবেন না। তার ভাষ্য, বিজয়ের আন্দোলন কয়েক দশকের রাজনৈতিক প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অন্য কোনো চলচ্চিত্র তারকার ওপর নির্ভর করলে হতাশ হতে হবে।

কংগ্রেস: তামিলনাড়ু কংগ্রেসের প্রধান বি মানিক্কম ঠাকুরের অভিযোগ, বিজেপি ও আরএসএস ‘অপারেশন ডি’ অথবা ‘প্ল্যান সি’ নামে একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তার দাবি, রজনীকান্তের মতো তারকাদের ব্যবহার করে বিজেপি আগে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে পারেনি। এবার নতুন কোনো অভিনেতাকে সামনে আনার চেষ্টা চলছে। এটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ। ধনুশের সঙ্গে আরএসএসের শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্যে সাক্ষাতের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ডিএমকে: দলটির প্রবীণ নেতা এস রেগুপাথি এ বিষয়ে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কেউ রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিজয় যদি রাজনীতিতে আসতে পারেন, তবে ধনুশ কেন পারবেন না?’ একই সঙ্গে তার দাবি, ধনুশকে নিয়ে টিভিকের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, ক্ষমতাসীন দলটি উদ্বিগ্ন।

এআইএডিএমকে: দলটির নেতা কে টি রাজেন্দ্র বালাজি সরাসরি ধনুশকে দলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর নেতৃত্বাধীন দল তাকে সাদরে গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি। তরুণদের মধ্যে ধনুশের জনপ্রিয়তার প্রশংসা করার পাশাপাশি তার সিনেমায় দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের জীবন তুলে ধরার বিষয়টিও উল্লেখ করেন রাজেন্দ্র।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের গুঞ্জন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধনুশের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়েও আলোচনা ছড়িয়েছে। কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়, তিনি নির্বাচন কমিশনে ‘তামিলনাড়ু উচি কাজাগাম’ নামে একটি দল নিবন্ধন করেছেন। তবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। ধনুশ কিংবা তার সংগঠনের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তার জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নতুন দল গঠন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সম্পর্ক রয়েছে, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।

কেন রাজনীতিতে আসতে পারেন ধনুশ?

ধনুশের বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। বিজয়ের নির্বাচনী সাফল্যও দেখিয়েছে, চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব। ধনুশের বেশ কয়েকটি সিনেমায় শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের জীবন উঠে এসেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে তাকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে তার সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রজনীকান্ত ও কমল হাসানের মতো তারকারাও রাজনীতিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক যাত্রার ফলাফল ছিল মিশ্র। রজনীকান্ত তো দল গঠনের আগেই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

টিভিকের দাবি, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছেন বিজয়। ধনুশের ক্ষেত্রে তেমন কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। রাজকুমার পেরিয়াসামি পরিচালিত তার ‘ওম’ ছবিতে অভিনয় করছেন মাম্মুট্টি ও সাই পল্লবী। সিনেমাটি ২০২৬ সালের ২০ নভেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনও কয়েক বছর বাকি। ফলে এখনই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাড়া নেই ধনুশের। রাজনৈতিক পদক্ষেপে ভুল হলে তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও চলচ্চিত্রজীবন—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ধনুশ হয়তো রাজনীতিতে প্রবেশের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া এক বিষয় নয়।

এখন পর্যন্ত ধনুশ নিজে এ বিষয়ে কিছু না বলায় পুরো বিষয়টি অনুমাননির্ভর। আপাতত রাজনীতির বাইরে রয়েছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ধনুশ রাজনীতিতে পা রাখবেন কি না, তা জানতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহল।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নগরীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৩

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আসছেন ধনুশ? – সময়ের কথা ২৪

Update Time : ০৫:৪৮:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬






অনলাইন ডেস্ক : তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অভিনেতা বিজয়ের সাফল্যের পর এবার আলোচনায় উঠে এসেছে আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা ধনুশের নাম। রাজনীতিতে তার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে) ধনুশকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) তাকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করতে আগ্রহী নয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, ধনুশকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিজেপি ও আরএসএস।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি ধনুশ। নতুন রাজনৈতিক দল গঠন কিংবা বিদ্যমান কোনো দলে যোগ দেওয়ার বিষয়েও ঘোষণা আসেনি তার পক্ষ থেকে।

বিজয়ের সাফল্যের পর বাড়ছে জল্পনা

২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন অভিনেতা বিজয়। ২০২৬ সালের মার্চে তিনি জানান, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনেই প্রার্থী দেবে তার দল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয় পায় টিভিকে। এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও জোট সরকার গঠন করে দলটি। ওই বছরের মে মাসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন বিজয়।

প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই একজন চলচ্চিত্র তারকার এমন সাফল্য তামিল চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার আলোচনা উসকে দিয়েছে। এখন বড় তারকাদের কাছে প্রায়ই জানতে চাওয়া হচ্ছে, বিজয় রাজনীতিতে সফল হলে অন্যরা কেন পারবেন না? ধনুশও সেই আলোচনার বাইরে থাকছেন না।

ভক্তদের পতাকা ও বাবার মন্তব্য

ধনুশকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা জোরালো হয় জুলাইয়ে। সে সময় তার ভক্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি পতাকা উন্মোচন করা হয়। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে পতাকার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। অতীতে চলচ্চিত্র তারকাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরুর ক্ষেত্রেও ভক্ত সংগঠনের পতাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে ধনুশের ভক্ত সংগঠনের পতাকা উন্মোচনকে তার নিজস্ব রাজনৈতিক পতাকা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অভিনেতার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

জুনের শুরুতে চেন্নাইয়ের একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ধনুশের বাবা কস্তুরী রাজাকে ছেলের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, যে কেউ রাজনীতিতে আসতে পারেন। তার ছেলেরা এমনকি নাতিরাও রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। সরাসরি সম্মতি না জানালেও তিনি সম্ভাবনাটি উড়িয়ে দেননি।

জনকল্যাণমূলক কাজের আহ্বান

২০২৬ সালের ২৬ জুলাই চেন্নাইয়ে ভক্তদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেন ধনুশ। তার সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি বহু মানুষের এক জায়গায় একত্র হওয়ার শক্তির কথা তুলে ধরেন। এই ঐক্যকে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। শুধু সিনেমার অডিও প্রকাশের অনুষ্ঠান কিংবা ভক্তদের মিলনমেলায় সীমাবদ্ধ না থেকে আরও বেশি জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান অভিনেতা।

বক্তব্যে অজিত কুমারের কথাও উল্লেখ করেন ধনুশ। এ সময় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকে তার বক্তব্যের সঙ্গে বিজয়ের ‘লিও’ ছবির অডিও প্রকাশ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণের তুলনা করেন। এক ভক্তের মতে, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে বিজয়ের বক্তব্যের সঙ্গে ধনুশের ভাষণের মিল রয়েছে। অন্য এক ভক্ত ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে রসিকতা করেন।

তবে জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানোকে রাজনীতিতে প্রবেশের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনেক তারকাই সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা বলেন। তারপরও বক্তব্যের সময় ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ধনুশের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা আরও বাড়িয়েছে।

ভক্ত সংগঠনের নাম পরিবর্তন

অক্টোবরে ধনুশের ভক্ত সংগঠনের নাম বদলে দেওয়া হয়। আগে সংগঠনটির নাম ছিল ‘ধনুশ নর্পানি মন্দ্রম’। নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘ধনুশ নর্পানি ইয়াক্কাম’, যার অর্থ ধনুশ জনকল্যাণ আন্দোলন।

২৬ অক্টোবর চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে থোরাইপাক্কামের একটি বেসরকারি কলেজে সংগঠনটির নারী শাখার সভা হয়। এতে প্রায় তিন হাজার সদস্য অংশ নেন। ধনুশ প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন এবং উপস্থিত সদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

অনুষ্ঠানের ৪৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার সংগঠন। মঞ্চের পেছনে থাকা ব্যানারে ধুতি ও শার্ট পরা ধনুশের ছবি দেখা যায়। অন্য ছবিতে তাকে হাত নাড়তে ও হাতজোড় করতে দেখা গেছে। এসব ভঙ্গিকে অনেকের কাছে রাজনৈতিক নেতার আচরণের মতো মনে হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সদস্যদের রুপার কামাক্ষী প্রদীপ উপহার দেন ধনুশ। প্রদীপগুলোতে পদ্মফুলের নকশা খোদাই করা ছিল। পদ্মফুল বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ধনুশের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।

রাজনীতি নিয়ে কী বললেন ধনুশ?

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকেরা রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ধনুশের কাছে জানতে চান। তবে প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান তিনি।

তার এই প্রতিক্রিয়ায় রাজনীতিতে প্রবেশের জল্পনা যেমন বন্ধ হয়নি, তেমনি বিষয়টি নিশ্চিতও হয়নি। ফলে রাজনীতিতে ধনুশের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ধনুশকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া

টিভিকে: ক্ষমতাসীন দলটি ধনুশের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে চাইছে না। দলের সাধারণ সম্পাদক আধব অর্জুনের দাবি, দিল্লির শীর্ষ নেতারা নতুন রাজনৈতিক মুখ সামনে আনার চেষ্টা করছেন। অর্থমন্ত্রী এন মারি উইলসনের মতে, ধনুশ কখনোই মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারবেন না। তার ভাষ্য, বিজয়ের আন্দোলন কয়েক দশকের রাজনৈতিক প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অন্য কোনো চলচ্চিত্র তারকার ওপর নির্ভর করলে হতাশ হতে হবে।

কংগ্রেস: তামিলনাড়ু কংগ্রেসের প্রধান বি মানিক্কম ঠাকুরের অভিযোগ, বিজেপি ও আরএসএস ‘অপারেশন ডি’ অথবা ‘প্ল্যান সি’ নামে একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তার দাবি, রজনীকান্তের মতো তারকাদের ব্যবহার করে বিজেপি আগে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে পারেনি। এবার নতুন কোনো অভিনেতাকে সামনে আনার চেষ্টা চলছে। এটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ। ধনুশের সঙ্গে আরএসএসের শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্যে সাক্ষাতের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ডিএমকে: দলটির প্রবীণ নেতা এস রেগুপাথি এ বিষয়ে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কেউ রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিজয় যদি রাজনীতিতে আসতে পারেন, তবে ধনুশ কেন পারবেন না?’ একই সঙ্গে তার দাবি, ধনুশকে নিয়ে টিভিকের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, ক্ষমতাসীন দলটি উদ্বিগ্ন।

এআইএডিএমকে: দলটির নেতা কে টি রাজেন্দ্র বালাজি সরাসরি ধনুশকে দলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর নেতৃত্বাধীন দল তাকে সাদরে গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি। তরুণদের মধ্যে ধনুশের জনপ্রিয়তার প্রশংসা করার পাশাপাশি তার সিনেমায় দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের জীবন তুলে ধরার বিষয়টিও উল্লেখ করেন রাজেন্দ্র।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের গুঞ্জন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধনুশের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়েও আলোচনা ছড়িয়েছে। কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়, তিনি নির্বাচন কমিশনে ‘তামিলনাড়ু উচি কাজাগাম’ নামে একটি দল নিবন্ধন করেছেন। তবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। ধনুশ কিংবা তার সংগঠনের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তার জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নতুন দল গঠন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সম্পর্ক রয়েছে, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।

কেন রাজনীতিতে আসতে পারেন ধনুশ?

ধনুশের বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। বিজয়ের নির্বাচনী সাফল্যও দেখিয়েছে, চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব। ধনুশের বেশ কয়েকটি সিনেমায় শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের জীবন উঠে এসেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে তাকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে তার সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রজনীকান্ত ও কমল হাসানের মতো তারকারাও রাজনীতিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক যাত্রার ফলাফল ছিল মিশ্র। রজনীকান্ত তো দল গঠনের আগেই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

টিভিকের দাবি, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছেন বিজয়। ধনুশের ক্ষেত্রে তেমন কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। রাজকুমার পেরিয়াসামি পরিচালিত তার ‘ওম’ ছবিতে অভিনয় করছেন মাম্মুট্টি ও সাই পল্লবী। সিনেমাটি ২০২৬ সালের ২০ নভেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনও কয়েক বছর বাকি। ফলে এখনই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাড়া নেই ধনুশের। রাজনৈতিক পদক্ষেপে ভুল হলে তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও চলচ্চিত্রজীবন—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ধনুশ হয়তো রাজনীতিতে প্রবেশের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া এক বিষয় নয়।

এখন পর্যন্ত ধনুশ নিজে এ বিষয়ে কিছু না বলায় পুরো বিষয়টি অনুমাননির্ভর। আপাতত রাজনীতির বাইরে রয়েছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ধনুশ রাজনীতিতে পা রাখবেন কি না, তা জানতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহল।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7