Dhaka ০২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রিটনের নিরাপত্তা জোরদারে নওগাঁ সীমান্তে নতুন ৩ বিজিবি ক্যাম্প রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নতুন আমীরের শপথ গ্রহণ নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৯ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনারদের মতবিনিময় রাজশাহীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২এর উদ্বোধন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৯

শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০ Time View






স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং তাদের প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ থেকে শুরু করে, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অনলাইন জগৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষন, যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার, ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এনজিসিএএফ) যৌথভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর কল্যাণে সবচেয়ে জরুরি হলো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দিতে হবে। তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দেয়া আমাদের গুরুদায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, মেয়েরা শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।

এসময় তিনি বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক সাফল্য ও বাংলাদেশী নারী নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই অর্জনগুলো দেশের জন্য গর্বের বিষয়।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, তাদেরকে সম্ভাবনা হিসেবে দেখুন। ছেলে ও মেয়েকে সমান মর্যাদা দিন এবং ছেলেদের ছোটবেলা থেকে মেয়েদেরকে সম্মান করতে শেখান।

একইসাথে তিনি মেয়েদের বিয়ের জন্য সঞ্চয়ের আগে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয় বরং অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা। তার শিক্ষা কোনো দয়া নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্টের পবিত্র দায়িত্ব।

দুই কন্যার পিতা হিসেবে প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে নিজের সন্তানদের মুখ দেখতে পান উল্লেখ করে তিনি বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা আমার জন্য শুধু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, গভীর মমতারও বিষয়।

তিনি বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণে ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা জরুরি। কন্যাসন্তান স্রষ্টার নেয়ামত হলেও সমাজে অনেক সময় এ নেয়ামতকে অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়। সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষায় নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশু বিয়ে শুধু একটি বিয়ে নয়, এর ফলে তাদের শৈশব থেমে যায়, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং সম্ভাবনার অপচয় ঘটে। এর সঙ্গে অকাল মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার আশঙ্কাও যুক্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, কন্যাশিশু নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এসময় তিনি প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি হেল্পলাইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।

কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্যায়, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হলে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

এসময় তিনি কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট শেখার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তোমাদের সাফল্যের সঙ্গে শুধু তোমাদের পরিবার নয় বরং সমাজ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, কন্যাশিশুর বিশ্বজয়ের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তাই প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিরাপদে জন্ম নেয়, নির্ভয়ে বেড়ে ওঠে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করে, দক্ষতা অর্জন করে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এসময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্বরণ করে বলেন, নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি যুগান্তকারী ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি নারীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন।

নারীর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি সরকারী দলের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি (পলিটিকাল কমিটমেন্ট) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে।

এসময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সব কন্যাশিশুর সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং এনজিসিএএফের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার ডলি।

এরআগে, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শারমিন জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দুইজন কন্যাশিশু তাদের মতামত তুলে ধরে।


Post Views: 23

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রিটনের

শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Update Time : ০১:৩৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬






স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং তাদের প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ থেকে শুরু করে, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অনলাইন জগৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষন, যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার, ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এনজিসিএএফ) যৌথভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর কল্যাণে সবচেয়ে জরুরি হলো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দিতে হবে। তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দেয়া আমাদের গুরুদায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, মেয়েরা শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।

এসময় তিনি বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক সাফল্য ও বাংলাদেশী নারী নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই অর্জনগুলো দেশের জন্য গর্বের বিষয়।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, তাদেরকে সম্ভাবনা হিসেবে দেখুন। ছেলে ও মেয়েকে সমান মর্যাদা দিন এবং ছেলেদের ছোটবেলা থেকে মেয়েদেরকে সম্মান করতে শেখান।

একইসাথে তিনি মেয়েদের বিয়ের জন্য সঞ্চয়ের আগে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয় বরং অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা। তার শিক্ষা কোনো দয়া নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্টের পবিত্র দায়িত্ব।

দুই কন্যার পিতা হিসেবে প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে নিজের সন্তানদের মুখ দেখতে পান উল্লেখ করে তিনি বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা আমার জন্য শুধু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, গভীর মমতারও বিষয়।

তিনি বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণে ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা জরুরি। কন্যাসন্তান স্রষ্টার নেয়ামত হলেও সমাজে অনেক সময় এ নেয়ামতকে অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়। সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষায় নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশু বিয়ে শুধু একটি বিয়ে নয়, এর ফলে তাদের শৈশব থেমে যায়, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং সম্ভাবনার অপচয় ঘটে। এর সঙ্গে অকাল মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার আশঙ্কাও যুক্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, কন্যাশিশু নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এসময় তিনি প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি হেল্পলাইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।

কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্যায়, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হলে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

এসময় তিনি কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট শেখার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তোমাদের সাফল্যের সঙ্গে শুধু তোমাদের পরিবার নয় বরং সমাজ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, কন্যাশিশুর বিশ্বজয়ের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তাই প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিরাপদে জন্ম নেয়, নির্ভয়ে বেড়ে ওঠে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করে, দক্ষতা অর্জন করে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এসময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্বরণ করে বলেন, নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি যুগান্তকারী ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি নারীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন।

নারীর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি সরকারী দলের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি (পলিটিকাল কমিটমেন্ট) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে।

এসময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সব কন্যাশিশুর সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং এনজিসিএএফের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার ডলি।

এরআগে, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শারমিন জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দুইজন কন্যাশিশু তাদের মতামত তুলে ধরে।


Post Views: 23

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7