Dhaka ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
পরিচালকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, যা বললেন দীঘি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন রোনালদো তানজিন তিশার সদস্যপদ স্থগিত করলো অভিনয়শিল্পী সংঘ চিকিৎসার অজুহাতে ডাক্তারকে ফ্ল্যাটে ডেকে যা করলেন অভিনেত্রী টিভিতে আজকের খেলা – সময়ের কথা ২৪ রাজধানীতে চালু হচ্ছে দুটি মনোরেল, চলবে যেসব রুটে স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান আইনমন্ত্রীর সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্কাউটিংয়ের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: আসাদুল হাবিব দুলু শাহ মখদুম (রহ.) ক্বারিয়ানা, হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক

ঝুঁকিপূর্ণ কক্সবাজার মাঝির ঘাট ব্রিজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮৫ Time View


মো. নুরুন্নবী, কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার-খুরুশকুল সংযোগকারী বাঁকখালী নদীর উপর নির্মিত বেইলি সেতুটি (যা স্থানীয়ভাবে মাঝির ঘাট ব্রিজ নামে পরিচিত) দীর্ঘদিন ধরে চরম রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অকেজো প্রায় হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া মাবিরঘাটস্থ খুরুশকুল ব্রিজটি পুনঃ নির্মাণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে স্থানীয়রা। এই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি পুনঃ নির্মাণ করা হলে কক্সবাজার শহরের সাথে পার্শ্ববর্তী খুরুশকুল, চৌফলদণ্ডী, ভারুয়াখালীসহ ঈদগাঁও উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াত সুবিধা সহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী উন্নতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে খুরুশকুল ব্রিজটি পূর্ণ সংস্কার বা মেরামতের দাবি সংসদে উপস্থাপন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না। এর পর থেকেই মূলত এই ব্রিজটি নিয়ে আরো বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ।

জানা যায় কক্সবাজার শহরের সাথে পার্শ্ববর্তী বাঁকখালী নদীর উপর পরে খুরুশকুল ব্রিজটি নির্মাণ করার পরে পুরো কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। ২০০৮ সালে খুরুশকুল ব্রিজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তবে সময়ের বিবর্তনে এই খুরুশকুল ব্রিজটি বর্তমানে খুবই নাজুক অবস্থায় পড়েছে। এ ব্যাপারে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না জানান, আমার নিজের বাড়ি টেকপাড়ায় এই ব্রিজটি বিএনপির সরকারের অবদান। এই ব্রিজটি হওয়ার পরে কক্সবাজার শহর সহ পার্শ্ববর্তী খুরুশকুল, চৌফলদণ্ডী, ভারুয়াখালী সহ বৃহত্তর ঈদগাঁও কয়েক লাখ মানুষের অবাধে যাতায়াত সুবিধা পায়। কিন্তু বর্তমানে ব্রিজটি উপরের অংশে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। তাই আমি গত ৯ সেপ্টেম্বর মহান জাতীয় সংসদে খুরুশকুল ব্রিজটি পূর্ণ মেরামতের দাবি উপস্থাপন করেছি। বিষয়টি সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত খুরুশকুল ব্রিজটি পূর্ণ মেরামত করে উপরের অংশে ঢালাই দেওয়াসহ একটি পরিপূর্ণ ব্রিজ হবে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সড়ক জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পুরাতন খুরুশকুল ব্রিজ এবং রাস্তা নিয়ে এর আগেও একটি প্রকল্প ছিল। তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। এখন যদি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয় আমরা কাজটি দ্রুত শুরু করবো।

এ ব্যাপারে খুরুশকুল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বলেন, খুরুশকুল সহ আশপাশের ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষের নিয়মিত যাতায়াত এই খুরুশকুল ব্রিজ দিয়ে। যদিও নতুন একটি সেতু হয়েছে। তবুও পুরাতন ব্রিজটি দিয়েই বেশির ভাগ মানুষের যাতায়াত এখনো। সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এই খুরুশকুল ব্রিজ নিয়ে সংসদ কথা বলার জন্য আমি আন্তরিকভাবে তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

টেকপাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন সওদাগর বলেন, যে কোন এলাকার উন্নয়ন নির্ভর করে সেই এলাকার উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর। এই খুরুশকুল ব্রিজটি হওয়ার পরে কক্সবাজারের পৌর এলাকা সহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে। তবে বর্তমানে ব্রিজটি খুবই নাজুক অবস্থা। একটি গাড়ি চললে আরেকটি চলতে পারেনা। বড় গাড়ি ভারী গাড়ি চলতে পারেনা। ব্রিজের উপরের অংশে পাটাতন খুলে গেছে। সব মিলিয়ে ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই এটা মেরামত স্থায়ী ভাবে মেরামত করা খুবই জরুরি। সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না এই জনদাবীটি সংসদে উপস্থাপন করায় উনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে এই বিষয়ে তদারকিতে রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

ইদগাঁও বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ২০০৮ সালের দিকে এই খুরুশকুল ব্রিজটি বিএনপি সরকারের আমলে বাস্তবায়ন হওয়ার পর থেকে বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের লাখ লাখ মানুষের জীবনমান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। পুরাতন খুরুশকুল ব্রিজটি হচ্ছে আমাদের কক্সবাজার শহরের সাথে যোগাযোগের মূল মাধ্যম। তাই এই ব্রিজটি দ্রুত নতুন অর্থাৎ উপরের অংশে সম্পূর্ণ ঢালাই করে এক সাথে কয়েকটি গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা গেলে সাধারণ মানুষের বেশি উপকার হবে।


Post Views: 52

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পরিচালকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, যা বললেন দীঘি

ঝুঁকিপূর্ণ কক্সবাজার মাঝির ঘাট ব্রিজ

Update Time : ০৮:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মো. নুরুন্নবী, কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার-খুরুশকুল সংযোগকারী বাঁকখালী নদীর উপর নির্মিত বেইলি সেতুটি (যা স্থানীয়ভাবে মাঝির ঘাট ব্রিজ নামে পরিচিত) দীর্ঘদিন ধরে চরম রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অকেজো প্রায় হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া মাবিরঘাটস্থ খুরুশকুল ব্রিজটি পুনঃ নির্মাণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে স্থানীয়রা। এই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি পুনঃ নির্মাণ করা হলে কক্সবাজার শহরের সাথে পার্শ্ববর্তী খুরুশকুল, চৌফলদণ্ডী, ভারুয়াখালীসহ ঈদগাঁও উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াত সুবিধা সহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী উন্নতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে খুরুশকুল ব্রিজটি পূর্ণ সংস্কার বা মেরামতের দাবি সংসদে উপস্থাপন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না। এর পর থেকেই মূলত এই ব্রিজটি নিয়ে আরো বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ।

জানা যায় কক্সবাজার শহরের সাথে পার্শ্ববর্তী বাঁকখালী নদীর উপর পরে খুরুশকুল ব্রিজটি নির্মাণ করার পরে পুরো কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। ২০০৮ সালে খুরুশকুল ব্রিজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তবে সময়ের বিবর্তনে এই খুরুশকুল ব্রিজটি বর্তমানে খুবই নাজুক অবস্থায় পড়েছে। এ ব্যাপারে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না জানান, আমার নিজের বাড়ি টেকপাড়ায় এই ব্রিজটি বিএনপির সরকারের অবদান। এই ব্রিজটি হওয়ার পরে কক্সবাজার শহর সহ পার্শ্ববর্তী খুরুশকুল, চৌফলদণ্ডী, ভারুয়াখালী সহ বৃহত্তর ঈদগাঁও কয়েক লাখ মানুষের অবাধে যাতায়াত সুবিধা পায়। কিন্তু বর্তমানে ব্রিজটি উপরের অংশে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। তাই আমি গত ৯ সেপ্টেম্বর মহান জাতীয় সংসদে খুরুশকুল ব্রিজটি পূর্ণ মেরামতের দাবি উপস্থাপন করেছি। বিষয়টি সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত খুরুশকুল ব্রিজটি পূর্ণ মেরামত করে উপরের অংশে ঢালাই দেওয়াসহ একটি পরিপূর্ণ ব্রিজ হবে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সড়ক জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পুরাতন খুরুশকুল ব্রিজ এবং রাস্তা নিয়ে এর আগেও একটি প্রকল্প ছিল। তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। এখন যদি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয় আমরা কাজটি দ্রুত শুরু করবো।

এ ব্যাপারে খুরুশকুল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বলেন, খুরুশকুল সহ আশপাশের ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষের নিয়মিত যাতায়াত এই খুরুশকুল ব্রিজ দিয়ে। যদিও নতুন একটি সেতু হয়েছে। তবুও পুরাতন ব্রিজটি দিয়েই বেশির ভাগ মানুষের যাতায়াত এখনো। সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এই খুরুশকুল ব্রিজ নিয়ে সংসদ কথা বলার জন্য আমি আন্তরিকভাবে তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

টেকপাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন সওদাগর বলেন, যে কোন এলাকার উন্নয়ন নির্ভর করে সেই এলাকার উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর। এই খুরুশকুল ব্রিজটি হওয়ার পরে কক্সবাজারের পৌর এলাকা সহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে। তবে বর্তমানে ব্রিজটি খুবই নাজুক অবস্থা। একটি গাড়ি চললে আরেকটি চলতে পারেনা। বড় গাড়ি ভারী গাড়ি চলতে পারেনা। ব্রিজের উপরের অংশে পাটাতন খুলে গেছে। সব মিলিয়ে ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই এটা মেরামত স্থায়ী ভাবে মেরামত করা খুবই জরুরি। সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না এই জনদাবীটি সংসদে উপস্থাপন করায় উনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে এই বিষয়ে তদারকিতে রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

ইদগাঁও বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ২০০৮ সালের দিকে এই খুরুশকুল ব্রিজটি বিএনপি সরকারের আমলে বাস্তবায়ন হওয়ার পর থেকে বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের লাখ লাখ মানুষের জীবনমান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। পুরাতন খুরুশকুল ব্রিজটি হচ্ছে আমাদের কক্সবাজার শহরের সাথে যোগাযোগের মূল মাধ্যম। তাই এই ব্রিজটি দ্রুত নতুন অর্থাৎ উপরের অংশে সম্পূর্ণ ঢালাই করে এক সাথে কয়েকটি গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা গেলে সাধারণ মানুষের বেশি উপকার হবে।


Post Views: 52

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7