Dhaka ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৯ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনারদের মতবিনিময় রাজশাহীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২এর উদ্বোধন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৯ কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য : কৃষিমন্ত্রী নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার পুঠিয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর শুভ উদ্বোধন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা – বাংলার আলো প্রতিদিন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫৬ Time View

গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার হরণের প্রতিবাদ, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিগত আওয়ামী শাসনামলের পুরো সময়জুড়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ সমমনা ও সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে অনেকেই লড়াই সংগ্রাম জারি রেখেছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনের আন্দোলন শুধু আদালত প্রাঙ্গণই নয়, তা রাজপথেও বিস্তৃত হয়েছে। তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করেই অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন আইনজীবীরা।

সে সময় এ আন্দোলনে যাদের নেতৃত্ব অবিস্মরণীয় ছিল, তাদের মধ্যে রয়েছেন- সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, এজে মোহাম্মদ আলী (প্রয়াত), ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। সাথে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একঝাঁক তরুণ আইনজীবী।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একসময় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালাতে এবং আটকদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মানজুর আল মতিন ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা (এখন হাইকোর্টের বিচারপতি)।

এই রিটের পক্ষে শুনানি করা অন্যতম আইনজীবী ছিলেন বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’ক বলেন, ‘সে সময় আমরা কোনো শিক্ষার্থী বা আন্দোলনকারীকে চিনতাম না। আমরা আমাদের বিবেকের তাড়নায় তাদের পক্ষে মানবিক কারণে আদালতে আইনি লড়াইয়ে নেমে ছিলাম। শুনানিতে আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীদের অপেশাদার বাধার মুখোমুখি হয়েছিলাম। ভবিষ্যতে যদি অমানবিক কোনো ঘটনা ঘটে আইনজীবী হিসেবে তখনো আমরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব পালন করব।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা আইনজীবী মনজুর আল মতিন আলোচিত সে রিট শুনানির পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা আদালতে এসেছি। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে আমরা রিট পিটিশনের ড্রাফট করেছি। আমরা আমাদের সন্তানদের গুলি থেকে রক্ষা করার জন্যই আদালতে এসেছি।’

একদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে আদালতে যেমন চলে আইনজীবীদের আইনি লড়াই। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির সমর্থন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিভিন্ন আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন আইনজীবীরা। উত্তাল সেই দিনে শিক্ষার্থীদের সাথে আইনজীবীদের একাত্মতা প্রকাশ সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি কাড়ে।

‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির ঐতিহাসিক দিনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের আটকে দিলে শিক্ষার্থীরা সুপ্রিম কোর্ট মাজার গেটের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে মাজার গেটের সামনে যান। তবে মাজার গেট বন্ধ থাকায় গেটের বাইরে শিক্ষার্থীরা এবং গেটের ভেতরে আইনজীবীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটকের খবর শুনে কিছু আইনজীবী মাজার গেটের পশ্চিম পাশের ব্যারিকেড টপকিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় এবং কিছু শিক্ষার্থীকে ভেতরে নিয়ে আসেন। সেদিন মাজার গেটে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এ ম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের বর্তমান সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলনসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, মানজুর-আল-মতিন, মো. তানভীর আহমেদসহ কয়েকশ’ আইনজীবী ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির ঐতিহাসিক দিনে সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেইটের সামনে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে মুখর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, তোমাদের এ কথা মনে করার কোনো কারণ নেই যে তোমরা একা বা তোমাদের সঙ্গে কেউ নেই। তোমাদের সঙ্গে আমরা আছি।’

একই দিন সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেইটের সামনে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেওয়া শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিতে সোচ্চার হন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইনজীবী। একপর্যায়ে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন নিজের দু-হাত পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে এগিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমাকে অ্যারেস্ট করুন। কিন্তু ওদের ছেড়ে দিন। ওরা কোনো অপরাধ করেনি।’ এ সময় পুলিশের গাড়ি সামনে বাধার দেয়াল দাঁড়িয়ে থাকা আইনজীবীদের দাবির মুখে শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

চব্বিশের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আদালত কক্ষ থেকে রাজপথ, সবখানেই সোচ্চার ছিলেন দেশের আইনজীবীরা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতিতে আন্দোলন, প্রতিবাদ, মানববন্ধনের পাশাপাশি বিনা পারিশ্রমিকে আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন আইনজীবীরা। এছাড়া গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে চালিয়েছেন আইনি লড়াই।

সুত্র: বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৯

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা – বাংলার আলো প্রতিদিন

Update Time : ০৩:২৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার হরণের প্রতিবাদ, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিগত আওয়ামী শাসনামলের পুরো সময়জুড়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ সমমনা ও সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে অনেকেই লড়াই সংগ্রাম জারি রেখেছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনের আন্দোলন শুধু আদালত প্রাঙ্গণই নয়, তা রাজপথেও বিস্তৃত হয়েছে। তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করেই অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন আইনজীবীরা।

সে সময় এ আন্দোলনে যাদের নেতৃত্ব অবিস্মরণীয় ছিল, তাদের মধ্যে রয়েছেন- সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, এজে মোহাম্মদ আলী (প্রয়াত), ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। সাথে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একঝাঁক তরুণ আইনজীবী।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একসময় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালাতে এবং আটকদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মানজুর আল মতিন ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা (এখন হাইকোর্টের বিচারপতি)।

এই রিটের পক্ষে শুনানি করা অন্যতম আইনজীবী ছিলেন বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’ক বলেন, ‘সে সময় আমরা কোনো শিক্ষার্থী বা আন্দোলনকারীকে চিনতাম না। আমরা আমাদের বিবেকের তাড়নায় তাদের পক্ষে মানবিক কারণে আদালতে আইনি লড়াইয়ে নেমে ছিলাম। শুনানিতে আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীদের অপেশাদার বাধার মুখোমুখি হয়েছিলাম। ভবিষ্যতে যদি অমানবিক কোনো ঘটনা ঘটে আইনজীবী হিসেবে তখনো আমরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব পালন করব।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা আইনজীবী মনজুর আল মতিন আলোচিত সে রিট শুনানির পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা আদালতে এসেছি। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে আমরা রিট পিটিশনের ড্রাফট করেছি। আমরা আমাদের সন্তানদের গুলি থেকে রক্ষা করার জন্যই আদালতে এসেছি।’

একদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে আদালতে যেমন চলে আইনজীবীদের আইনি লড়াই। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির সমর্থন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিভিন্ন আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন আইনজীবীরা। উত্তাল সেই দিনে শিক্ষার্থীদের সাথে আইনজীবীদের একাত্মতা প্রকাশ সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি কাড়ে।

‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির ঐতিহাসিক দিনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের আটকে দিলে শিক্ষার্থীরা সুপ্রিম কোর্ট মাজার গেটের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে মাজার গেটের সামনে যান। তবে মাজার গেট বন্ধ থাকায় গেটের বাইরে শিক্ষার্থীরা এবং গেটের ভেতরে আইনজীবীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটকের খবর শুনে কিছু আইনজীবী মাজার গেটের পশ্চিম পাশের ব্যারিকেড টপকিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় এবং কিছু শিক্ষার্থীকে ভেতরে নিয়ে আসেন। সেদিন মাজার গেটে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এ ম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের বর্তমান সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলনসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, মানজুর-আল-মতিন, মো. তানভীর আহমেদসহ কয়েকশ’ আইনজীবী ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির ঐতিহাসিক দিনে সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেইটের সামনে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে মুখর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, তোমাদের এ কথা মনে করার কোনো কারণ নেই যে তোমরা একা বা তোমাদের সঙ্গে কেউ নেই। তোমাদের সঙ্গে আমরা আছি।’

একই দিন সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেইটের সামনে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেওয়া শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিতে সোচ্চার হন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইনজীবী। একপর্যায়ে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন নিজের দু-হাত পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে এগিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমাকে অ্যারেস্ট করুন। কিন্তু ওদের ছেড়ে দিন। ওরা কোনো অপরাধ করেনি।’ এ সময় পুলিশের গাড়ি সামনে বাধার দেয়াল দাঁড়িয়ে থাকা আইনজীবীদের দাবির মুখে শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

চব্বিশের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আদালত কক্ষ থেকে রাজপথ, সবখানেই সোচ্চার ছিলেন দেশের আইনজীবীরা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতিতে আন্দোলন, প্রতিবাদ, মানববন্ধনের পাশাপাশি বিনা পারিশ্রমিকে আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন আইনজীবীরা। এছাড়া গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে চালিয়েছেন আইনি লড়াই।

সুত্র: বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7