Dhaka ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :

রাজশাহীতে আলোচিত ধর্ষণ মামলার রায়, বেকসুর খালাস ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ১৫৫ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর উপজেলার বহুল আলোচিত এক কিশোরী ধর্ষণ মামলায় প্রায় ছয় বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি তৎকালীন ধর্মযাজক ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালত-১।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শরনিম আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ এবং ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন বলে অভিহিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই স্বপন হাঁসদা বলেন, এই রায়ে তাদের পরিবার সন্তুষ্ট নয়। তার দাবি, তার বোনের প্রতি সংঘটিত অন্যায়ের ন্যায়বিচার তারা পাননি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ছয় বছরের বিচারপ্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সময়ে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিছু নথি যথাসময়ে আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি একজন আদিবাসী (উপজাতি) সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে বিচারপ্রক্রিয়ায় হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলে বোনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিতালী বলেন, আসামিকে খালাস দেওয়ায় ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে। তিনি জানান, এখনো পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়া যায়নি। রায়ের কপি সংগ্রহের পর আদালত কোন যুক্তিতে খালাস দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে বলেও জানান তিনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম বলেন, শুরু থেকেই তাদের দাবি ছিল, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একজন ধর্মযাজককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্য নথি উপস্থাপন করতে না পারায় আদালত আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে আপিল করতে পারে, সেটি তাদের আইনগত অধিকার।
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী বলেন, দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন। এ সময়ে তাকে অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আদালতের রায়কে তিনি ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মাহালীপাড়া এলাকার ওই কিশোরী বাড়ির পাশের সাধুজন মেরী গির্জার কাছে ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন তার বড় ভাই স্বপন হাঁসদা তানোর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গির্জা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ওই রাতেই তার বড় ভাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে একমাত্র আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, কিশোরীকে গির্জার একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছিল।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে বেকসুর খালাস দিলেও বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিলের ঘোষণা দেওয়ায় মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। #

 

Post Views: 82

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বালুর নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতকের ঠাঁই হলো রাজশাহীর ছোটমনি নিবাসে

রাজশাহীতে আলোচিত ধর্ষণ মামলার রায়, বেকসুর খালাস ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী

Update Time : ০৩:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর উপজেলার বহুল আলোচিত এক কিশোরী ধর্ষণ মামলায় প্রায় ছয় বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি তৎকালীন ধর্মযাজক ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালত-১।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শরনিম আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ এবং ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন বলে অভিহিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই স্বপন হাঁসদা বলেন, এই রায়ে তাদের পরিবার সন্তুষ্ট নয়। তার দাবি, তার বোনের প্রতি সংঘটিত অন্যায়ের ন্যায়বিচার তারা পাননি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ছয় বছরের বিচারপ্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সময়ে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিছু নথি যথাসময়ে আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি একজন আদিবাসী (উপজাতি) সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে বিচারপ্রক্রিয়ায় হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলে বোনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিতালী বলেন, আসামিকে খালাস দেওয়ায় ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে। তিনি জানান, এখনো পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়া যায়নি। রায়ের কপি সংগ্রহের পর আদালত কোন যুক্তিতে খালাস দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে বলেও জানান তিনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম বলেন, শুরু থেকেই তাদের দাবি ছিল, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একজন ধর্মযাজককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্য নথি উপস্থাপন করতে না পারায় আদালত আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে আপিল করতে পারে, সেটি তাদের আইনগত অধিকার।
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী বলেন, দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন। এ সময়ে তাকে অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আদালতের রায়কে তিনি ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মাহালীপাড়া এলাকার ওই কিশোরী বাড়ির পাশের সাধুজন মেরী গির্জার কাছে ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন তার বড় ভাই স্বপন হাঁসদা তানোর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গির্জা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ওই রাতেই তার বড় ভাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে একমাত্র আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, কিশোরীকে গির্জার একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছিল।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে বেকসুর খালাস দিলেও বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিলের ঘোষণা দেওয়ায় মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। #

 

Post Views: 82

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7