Dhaka ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৫ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার জেলা পুলিশের ৭ দিনব্যাপী বিশেষ অভিযানে মোট গ্রেফতার ৮৫ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মান্দায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান নগরীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সিগারেট উদ্ধার শিবগঞ্জে ৭৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার নগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী গ্রেপ্তার

কাটা গাছের গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছিয়ার প্রশ্ন, ‘গাছের সঙ্গে শত্রুতা কেন’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৪২ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : ‘আমার জায়গায় ঘর, আমার জায়গায় গাছ। নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে গাছগুলো বড় করেছি। শত্রুতা আমার সঙ্গে, কিন্তু গাছের সঙ্গে শত্রুতা কেন? বাইরের লোক এনে জোর করে দশটি গাছ কেটেছে। আমি এর বিচার চাই।’ সরেজমিনে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে নিজের বাগানের কাটা গাছের গোড়ার পাশে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ৬০ বছর বয়সী আছিয়া বেগম। দীর্ঘদিন ধরে পরিচর্যা করে বড় করা গাছগুলো হারিয়ে তিনি এখন দিশাহারা। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার নলখোলা গ্রামে। আছিয়া বেগমের অভিযোগ, জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর বাগানের নয়টি মেহগনি ও একটি আমগাছ কেটেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গাছগুলোর আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা বলে দাবি তাঁর পরিবারের। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে কাটাখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। লিখিত অভিযোগে আছিয়া বেগম উল্লেখ করেছেন, প্রায় ২৬ বছর আগে নলখোলা মৌজায় ৪১ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। জমিটি তাঁর পরিবারের ভোগদখলে রয়েছে। সেখানে তাঁরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে বাগান গড়ে তোলেন। তবে জমি কেনার পর থেকেই নিকটাত্মীয় কয়েকজনের সঙ্গে সীমানা নিয়ে তাঁদের বিরোধ চলছিল। বিরোধ মেটাতে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কয়েকটি শর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। তবে প্রতিপক্ষ সেই সমঝোতা মানেননি বলে অভিযোগ আছিয়ার।

পরিবারটির ভাষ্য, স্থানীয় আমিন দিয়ে জমিটি অন্তত ১০ বার মাপা হয়েছে। প্রতিবারই বিরোধপূর্ণ অংশটি আছিয়া বেগমের জমির মধ্যে পড়েছে। কেটে ফেলা গাছগুলোর গোড়াও তাঁর জমির ভেতরে। এরপরও গাছগুলো কাটার জন্য তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আছিয়ার ছেলে আব্দুর রশিদ বলেন, জমি কেনার পর তাঁরাই সেখানে গাছগুলো লাগিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের ছয় ফুট জমি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সুষ্ঠু মাপজোখের আগেই তাঁদের গাছ কাটতে চাপ দেওয়া হয়। এখন বাগানের অন্য পাশে থাকা আরও ১৩টি গাছ কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। আছিয়া বেগম বলেন, ঘটনার সময় তাঁর দুই ছেলে আশরাফের মোড় এলাকায় নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন। স্বামী আজিবার রহমান গরুর জন্য ঘাস কাটতে বিলে গিয়েছিলেন। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে ১০ থেকে ১২ জন বহিরাগত শ্রমিক এনে গাছগুলো কাটা হয়েছে। তিনি বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় দুই নারীর নাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’ কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কাদেরী বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জমির কাগজপত্র, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং গাছ কাটার সঙ্গে কারা জড়িত, তা যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কাটা গাছের গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছিয়ার প্রশ্ন, ‘গাছের সঙ্গে শত্রুতা কেন’

Update Time : ০৩:৫৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : ‘আমার জায়গায় ঘর, আমার জায়গায় গাছ। নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে গাছগুলো বড় করেছি। শত্রুতা আমার সঙ্গে, কিন্তু গাছের সঙ্গে শত্রুতা কেন? বাইরের লোক এনে জোর করে দশটি গাছ কেটেছে। আমি এর বিচার চাই।’ সরেজমিনে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে নিজের বাগানের কাটা গাছের গোড়ার পাশে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ৬০ বছর বয়সী আছিয়া বেগম। দীর্ঘদিন ধরে পরিচর্যা করে বড় করা গাছগুলো হারিয়ে তিনি এখন দিশাহারা। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার নলখোলা গ্রামে। আছিয়া বেগমের অভিযোগ, জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর বাগানের নয়টি মেহগনি ও একটি আমগাছ কেটেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গাছগুলোর আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা বলে দাবি তাঁর পরিবারের। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে কাটাখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। লিখিত অভিযোগে আছিয়া বেগম উল্লেখ করেছেন, প্রায় ২৬ বছর আগে নলখোলা মৌজায় ৪১ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। জমিটি তাঁর পরিবারের ভোগদখলে রয়েছে। সেখানে তাঁরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে বাগান গড়ে তোলেন। তবে জমি কেনার পর থেকেই নিকটাত্মীয় কয়েকজনের সঙ্গে সীমানা নিয়ে তাঁদের বিরোধ চলছিল। বিরোধ মেটাতে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কয়েকটি শর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। তবে প্রতিপক্ষ সেই সমঝোতা মানেননি বলে অভিযোগ আছিয়ার।

পরিবারটির ভাষ্য, স্থানীয় আমিন দিয়ে জমিটি অন্তত ১০ বার মাপা হয়েছে। প্রতিবারই বিরোধপূর্ণ অংশটি আছিয়া বেগমের জমির মধ্যে পড়েছে। কেটে ফেলা গাছগুলোর গোড়াও তাঁর জমির ভেতরে। এরপরও গাছগুলো কাটার জন্য তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আছিয়ার ছেলে আব্দুর রশিদ বলেন, জমি কেনার পর তাঁরাই সেখানে গাছগুলো লাগিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের ছয় ফুট জমি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সুষ্ঠু মাপজোখের আগেই তাঁদের গাছ কাটতে চাপ দেওয়া হয়। এখন বাগানের অন্য পাশে থাকা আরও ১৩টি গাছ কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। আছিয়া বেগম বলেন, ঘটনার সময় তাঁর দুই ছেলে আশরাফের মোড় এলাকায় নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন। স্বামী আজিবার রহমান গরুর জন্য ঘাস কাটতে বিলে গিয়েছিলেন। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে ১০ থেকে ১২ জন বহিরাগত শ্রমিক এনে গাছগুলো কাটা হয়েছে। তিনি বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় দুই নারীর নাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’ কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কাদেরী বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জমির কাগজপত্র, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং গাছ কাটার সঙ্গে কারা জড়িত, তা যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Bangla Photocard Generatorv3.7