Dhaka ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৫ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার জেলা পুলিশের ৭ দিনব্যাপী বিশেষ অভিযানে মোট গ্রেফতার ৮৫ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মান্দায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান নগরীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সিগারেট উদ্ধার শিবগঞ্জে ৭৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার নগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী গ্রেপ্তার

মিরসরাইয়ে চলতি মাসে কার্যক্রম শুরু করবে নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৩৩ Time View

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা, ৬ জুলাই, ২০২৬ : বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প কেন্দ্র চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলতি মাসে একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট কার্যক্রম শুরু করবে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন বাসস’কে বলেন, চলতি মাসে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট কার্যক্রম শুরু করবে।

তিনি বলেন, দ্রুত সম্প্রসারণশীল এই শিল্পাঞ্চলকে সহায়তা করার জন্য সরকার নতুন এই ইউনিটের জন্য ১৬০ জন পুলিশ সদস্য অনুমোদন করেছে, যদিও কর্তৃপক্ষ আগে কার্যক্রম পরিচালনায় আরও অনেক বেশি কর্মী চেয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপটি দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রম আইন প্রয়োগ, শ্রমিক সুরক্ষা এবং শিল্প নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের বৃহত্তর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি অংশ।

গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট, যার দায়িত্ব হলো শিল্পাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা প্রদান করা এবং একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও উৎপাদন-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে বারবার সংঘটিত শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষিতে এই বাহিনীটি গঠন করা হয় এবং এটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ বিধিমালা, ২০১৭-এর অধীনে পরিচালিত হয়। এর সদর দপ্তর বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত। দায়িত্ব বাড়লেও বাহিনীটি জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে।

জসিম উদ্দিন বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নয়টি ইউনিটের জন্য অনুমোদিত ৪,২০০ সদস্যের বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৩,৫০০ জন সদস্য রয়েছে, যা দেশব্যাপী শিল্প নিরাপত্তা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি তৈরি করছে। বাহিনীটি বর্তমানে আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে চারটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট পরিচালনা করছে এবং খুলনা, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে অতিরিক্ত ইউনিট চালু রয়েছে।

সিলেট ও কুমিল্লা ইউনিটগুলো অন্যান্য পুলিশ ইউনিট থেকে ডেপুটেশনে আসা সুপারিনটেনডেন্ট-পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, অন্যদিকে ময়মনসিংহ ইউনিটটি সীমিত জনবল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

কার্যক্রমের সক্ষমতা জোরদার করতে বাংলাদেশ পুলিশ আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে পাঁচটি বিশেষায়িত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ লাইন স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে।

জসিম বলেন, ‘২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নিজস্ব কোনো বিশেষায়িত পুলিশ লাইন ছিল না।’

তিনি বলেন, এই সুবিধাগুলোর জন্য জমি বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে এবং স্থাপত্য বিভাগ নকশা প্রস্তুত করছে। কর্তৃপক্ষ খুলনায় একটি পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাবও দিয়েছে। খুলনার বর্তমান ইউনিটটি, মংলা ও যশোরে অবস্থিত এর উপ-ইউনিটগুলোসহ, বর্তমানে একটি অস্থায়ী কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গাজী জসিম বলেন, শিল্প পুলিশের সদরদপ্তরও প্রতিষ্ঠার পর থেকে উত্তরায় একটি ভাড়া করা ভবন থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব পালনে সহায়তার জন্য একটি স্থায়ী সদর দপ্তর অপরিহার্য।

তিনি বলেন, বাহিনীটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তাদের উপস্থিতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, যেখানে বিশেষ করে রংপুর ও নীলফামারীতে শ্রমিক অসন্তোষ পর্যায়ক্রমে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করেছে।

জসিম উদ্দিনের মতে, এই অঞ্চলে শ্রম বিরোধে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে বগুড়ায় একটি পৃথক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাবটি এখনও সরকারি অনুমোদন পায়নি।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬,০০০ তৈরি পোশাক কারখানা এবং অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত।

পোশাক শিল্পের নেতৃত্বে দেশের শিল্প খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়, যা একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল শিল্প পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।

সুত্র: বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

মিরসরাইয়ে চলতি মাসে কার্যক্রম শুরু করবে নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট

Update Time : ০২:৫৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা, ৬ জুলাই, ২০২৬ : বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প কেন্দ্র চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলতি মাসে একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট কার্যক্রম শুরু করবে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন বাসস’কে বলেন, চলতি মাসে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট কার্যক্রম শুরু করবে।

তিনি বলেন, দ্রুত সম্প্রসারণশীল এই শিল্পাঞ্চলকে সহায়তা করার জন্য সরকার নতুন এই ইউনিটের জন্য ১৬০ জন পুলিশ সদস্য অনুমোদন করেছে, যদিও কর্তৃপক্ষ আগে কার্যক্রম পরিচালনায় আরও অনেক বেশি কর্মী চেয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপটি দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রম আইন প্রয়োগ, শ্রমিক সুরক্ষা এবং শিল্প নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের বৃহত্তর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি অংশ।

গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট, যার দায়িত্ব হলো শিল্পাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা প্রদান করা এবং একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও উৎপাদন-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে বারবার সংঘটিত শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষিতে এই বাহিনীটি গঠন করা হয় এবং এটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ বিধিমালা, ২০১৭-এর অধীনে পরিচালিত হয়। এর সদর দপ্তর বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত। দায়িত্ব বাড়লেও বাহিনীটি জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে।

জসিম উদ্দিন বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নয়টি ইউনিটের জন্য অনুমোদিত ৪,২০০ সদস্যের বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৩,৫০০ জন সদস্য রয়েছে, যা দেশব্যাপী শিল্প নিরাপত্তা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি তৈরি করছে। বাহিনীটি বর্তমানে আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে চারটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট পরিচালনা করছে এবং খুলনা, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে অতিরিক্ত ইউনিট চালু রয়েছে।

সিলেট ও কুমিল্লা ইউনিটগুলো অন্যান্য পুলিশ ইউনিট থেকে ডেপুটেশনে আসা সুপারিনটেনডেন্ট-পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, অন্যদিকে ময়মনসিংহ ইউনিটটি সীমিত জনবল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

কার্যক্রমের সক্ষমতা জোরদার করতে বাংলাদেশ পুলিশ আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে পাঁচটি বিশেষায়িত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ লাইন স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে।

জসিম বলেন, ‘২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নিজস্ব কোনো বিশেষায়িত পুলিশ লাইন ছিল না।’

তিনি বলেন, এই সুবিধাগুলোর জন্য জমি বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে এবং স্থাপত্য বিভাগ নকশা প্রস্তুত করছে। কর্তৃপক্ষ খুলনায় একটি পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাবও দিয়েছে। খুলনার বর্তমান ইউনিটটি, মংলা ও যশোরে অবস্থিত এর উপ-ইউনিটগুলোসহ, বর্তমানে একটি অস্থায়ী কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গাজী জসিম বলেন, শিল্প পুলিশের সদরদপ্তরও প্রতিষ্ঠার পর থেকে উত্তরায় একটি ভাড়া করা ভবন থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব পালনে সহায়তার জন্য একটি স্থায়ী সদর দপ্তর অপরিহার্য।

তিনি বলেন, বাহিনীটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তাদের উপস্থিতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, যেখানে বিশেষ করে রংপুর ও নীলফামারীতে শ্রমিক অসন্তোষ পর্যায়ক্রমে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করেছে।

জসিম উদ্দিনের মতে, এই অঞ্চলে শ্রম বিরোধে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে বগুড়ায় একটি পৃথক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাবটি এখনও সরকারি অনুমোদন পায়নি।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬,০০০ তৈরি পোশাক কারখানা এবং অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত।

পোশাক শিল্পের নেতৃত্বে দেশের শিল্প খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়, যা একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল শিল্প পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।

সুত্র: বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7