নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, চোরাচালান প্রতিরোধ ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে নতুন তিনটি সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) স্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নব আদাতলা, বটতলী ও গাইনোর এলাকায় স্থাপিত এসব বিওপির মধ্যে নব আদাতলা বিওপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন বিজিবি উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের।
উদ্বোধন শেষে বিওপি চত্বরে একটি আমগাছের চারা রোপণ করেন তিনি। এ সময় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নতুন তিনটি বিওপি স্থাপনের ফলে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়বে। এতে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারাও নতুন বিওপি স্থাপনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
নওগাঁ জেলার সঙ্গে ভারতের সীমান্ত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ। ভৌগোলিক কারণে এ সীমান্তের বড় একটি অংশ দুর্গম। অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকা চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভারতীয় অংশে অধিকাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও বিষ্ণুপুর, নীলমারী, গাইনোর, বালাশহীদ, দুয়ারপাল, রাঙ্গাপুকুর, আদাতলা ও কৃষ্ণসদাসহ কয়েকটি এলাকা গবাদিপশু ও মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারত থেকে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) ঘটনাও বেড়েছে।
বুড়িমারী সীমান্তে পুশইন প্রতিহত করল বিজিবি
০৪ নভেম্বর ২০২৬
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) প্রায়ই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ায়। গত পাঁচ বছরে সাপাহার ও পোরশা সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে অন্তত সাতজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নির্যাতনে অনেকে পঙ্গু হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন।
পোরশা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারিক জানান, সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকলেও চোরাকারবারি চক্রগুলো এখনো পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়নি। সীমান্তে নিহত ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলো বিচারের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে। একই সঙ্গে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বিওপি স্থাপনের দাবিও ছিল তাদের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের জানিয়েছেন, নতুন বিওপি চালুর ফলে সীমান্তে টহল ও নজরদারি বহুগুণ বাড়বে। এর মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এসব রুটে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও গবাদিপশু পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। সীমান্তের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত সতর্ক থাকবেন।
Views: 36
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।
Reporter Name 


















