Dhaka ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য : কৃষিমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ Time View






স্টাফ রিপোর্টার : কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশকে কৃষিপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। যে-সব কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলোর দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে আমদানি থেকে বেরিয়ে আসা হবে।

মন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আম ও লিচুবাগান, আধুনিক পদ্ধতিতে আদা, গ্রীষ্মকালীন কাঁচামরিচ ও টমেটো চাষের উৎপাদন এলাকা এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সেচ প্রকল্প পরিদর্শনকালে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আমদানিনির্ভরতা থেকে রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং কৃষির প্রতি আন্তরিক। এ অঞ্চলে আম উৎপাদনের পাশাপাশি ধান ও সবজি চাষেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কৃষির সম্ভাবনাকে আরও কাজে লাগাতে আমবাগানের গাছের মধ্যবর্তী অব্যবহৃত জমিতে আদা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। আমবাগানের ফাঁকা জায়গায় আদা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে কৃষকের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত হবে। এ লক্ষ্যে মাটির উপযোগিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহারের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে একটি বড় প্রকল্প ইতোমধ্যে তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে আম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানো গেলে মৌসুমে দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া রোধ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত আমের ন্যায্যমূল্য পাবেন।

পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আদা, রসুন ও বর্ষাকালীন টমেটোর উৎপাদন বাড়াতেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী মৌসুম থেকে বর্ষাকালীন টমেটো চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সফরকালে মন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গায় রোপা আমন ধান কর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএমডিএর প্রতিনিধি এবং কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য : কৃষিমন্ত্রী

Update Time : ০৪:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬






স্টাফ রিপোর্টার : কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশকে কৃষিপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। যে-সব কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলোর দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে আমদানি থেকে বেরিয়ে আসা হবে।

মন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আম ও লিচুবাগান, আধুনিক পদ্ধতিতে আদা, গ্রীষ্মকালীন কাঁচামরিচ ও টমেটো চাষের উৎপাদন এলাকা এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সেচ প্রকল্প পরিদর্শনকালে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আমদানিনির্ভরতা থেকে রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং কৃষির প্রতি আন্তরিক। এ অঞ্চলে আম উৎপাদনের পাশাপাশি ধান ও সবজি চাষেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কৃষির সম্ভাবনাকে আরও কাজে লাগাতে আমবাগানের গাছের মধ্যবর্তী অব্যবহৃত জমিতে আদা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। আমবাগানের ফাঁকা জায়গায় আদা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে কৃষকের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত হবে। এ লক্ষ্যে মাটির উপযোগিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহারের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে একটি বড় প্রকল্প ইতোমধ্যে তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে আম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানো গেলে মৌসুমে দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া রোধ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত আমের ন্যায্যমূল্য পাবেন।

পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আদা, রসুন ও বর্ষাকালীন টমেটোর উৎপাদন বাড়াতেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী মৌসুম থেকে বর্ষাকালীন টমেটো চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সফরকালে মন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গায় রোপা আমন ধান কর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএমডিএর প্রতিনিধি এবং কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7