Dhaka ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নিরাপত্তা জোরদারে নওগাঁ সীমান্তে নতুন ৩ বিজিবি ক্যাম্প রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নতুন আমীরের শপথ গ্রহণ নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৯ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনারদের মতবিনিময় রাজশাহীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২এর উদ্বোধন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৯ কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য : কৃষিমন্ত্রী

একই আঙিনায় আজান ও শঙ্খধ্বনি, চারঘাটে সম্প্রীতির অনন্য নজির

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫২ Time View






‎চারঘাট প্রতিনিধি : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পশ্চিম ঝিকরা গ্রাম। বড়াল নদের পাড় ঘেঁষা ছোট্ট একটি গ্রাম। এখানে ঢুকলেই চোখে পড়বে এক অবাক দৃশ্য – একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে একটি মসজিদ ও একটি মন্দির। একদিকে আতরের ঘ্রাণ, অন্যদিকে ধূপকাঠির সুবাস। একপাশে মুয়াজ্জিনের আজান, অন্যপাশে পূজারির শঙ্খধ্বনি। কিন্তু কোনো সংঘাত নেই, আছে শুধু ভালবাসা আর ভ্রাতৃত্ব।
‎
‎স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই দশক আগে ২০০৫-০৬ সালের দিকে পশ্চিম ঝিকরা কর্মকারপাড়ায় কালী মন্দিরটি গড়ে তোলা হয়। তখন থেকেই এখানে শারদীয় দুর্গোৎসব, কালীপূজাসহ সকল পূজা-অর্চনা হয়ে আসছে। মন্দিরের জায়গার পাশেই ২০২১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় পশ্চিম ঝিকরা জামে মসজিদ।
‎
‎একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির হওয়ায় প্রথমে অনেকের মনে শঙ্কা ছিল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে একবারও কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। বরং সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
‎
‎মন্দিরের সভাপতি উত্তম কর্মকার বলেন, “এই মন্দিরে দুই দশকের বেশি সময় ধরে পূজা হচ্ছে। পাশে মসজিদ হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম সমস্যা হবে কিনা। কিন্তু কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। আজানের সময় আমরা মাইক বন্ধ রাখি, পূজারিরা নীরবতা বজায় রাখেন। মুসলমান ভাইদের সঙ্গে আমাদের কখনো দ্বন্দ্ব হয়নি।”
‎
‎একই সুর মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ মুশফিকুর রহমানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “আমি মসজিদের সভাপতি, আর আমার বন্ধু অপু মন্দিরের সভাপতি। আমরা আলাদা ধর্মের হলেও একসাথে আড্ডা দিই, একে অপরের দাওয়াতে যাই। ঈদে তারা আসে, পূজায় আমরা যাই। দিনশেষে আমরা সবাই এক গ্রামের মানুষ, এটাই আমাদের বড় পরিচয়।”
‎
‎এই সম্প্রীতির গল্প এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো চারঘাটে। দুর্গাপূজার সময় মুসলমান যুবকরা মন্দির পাহারা দেন, আর ঈদের সময় হিন্দু যুবকরা মসজিদের পাশে ভিড় সামলান।
‎
‎এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “পশ্চিম ঝিকরার এই চিত্র সারা বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ। উৎসব কখনো একা পালন করা যায় না। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই উৎসব সুন্দর হয়। এখানকার মানুষ সেটা প্রমাণ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা এই সম্প্রীতি অটুট রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করব।”
‎
‎স্থানীয় প্রবীণরা বলছেন, রাজনৈতিক বিভেদ অনেক জায়গায় সম্প্রীতি নষ্ট করলেও এই গ্রামে ধর্ম কখনো বিভেদের কারণ হয়নি। একই আঙিনায় দুটি উপাসনালয় শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির প্রতীক।


Post Views: 5

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নিরাপত্তা জোরদারে নওগাঁ সীমান্তে নতুন ৩ বিজিবি ক্যাম্প

একই আঙিনায় আজান ও শঙ্খধ্বনি, চারঘাটে সম্প্রীতির অনন্য নজির

Update Time : ০৫:৫২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬






‎চারঘাট প্রতিনিধি : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পশ্চিম ঝিকরা গ্রাম। বড়াল নদের পাড় ঘেঁষা ছোট্ট একটি গ্রাম। এখানে ঢুকলেই চোখে পড়বে এক অবাক দৃশ্য – একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে একটি মসজিদ ও একটি মন্দির। একদিকে আতরের ঘ্রাণ, অন্যদিকে ধূপকাঠির সুবাস। একপাশে মুয়াজ্জিনের আজান, অন্যপাশে পূজারির শঙ্খধ্বনি। কিন্তু কোনো সংঘাত নেই, আছে শুধু ভালবাসা আর ভ্রাতৃত্ব।
‎
‎স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই দশক আগে ২০০৫-০৬ সালের দিকে পশ্চিম ঝিকরা কর্মকারপাড়ায় কালী মন্দিরটি গড়ে তোলা হয়। তখন থেকেই এখানে শারদীয় দুর্গোৎসব, কালীপূজাসহ সকল পূজা-অর্চনা হয়ে আসছে। মন্দিরের জায়গার পাশেই ২০২১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় পশ্চিম ঝিকরা জামে মসজিদ।
‎
‎একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির হওয়ায় প্রথমে অনেকের মনে শঙ্কা ছিল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে একবারও কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। বরং সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
‎
‎মন্দিরের সভাপতি উত্তম কর্মকার বলেন, “এই মন্দিরে দুই দশকের বেশি সময় ধরে পূজা হচ্ছে। পাশে মসজিদ হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম সমস্যা হবে কিনা। কিন্তু কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। আজানের সময় আমরা মাইক বন্ধ রাখি, পূজারিরা নীরবতা বজায় রাখেন। মুসলমান ভাইদের সঙ্গে আমাদের কখনো দ্বন্দ্ব হয়নি।”
‎
‎একই সুর মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ মুশফিকুর রহমানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “আমি মসজিদের সভাপতি, আর আমার বন্ধু অপু মন্দিরের সভাপতি। আমরা আলাদা ধর্মের হলেও একসাথে আড্ডা দিই, একে অপরের দাওয়াতে যাই। ঈদে তারা আসে, পূজায় আমরা যাই। দিনশেষে আমরা সবাই এক গ্রামের মানুষ, এটাই আমাদের বড় পরিচয়।”
‎
‎এই সম্প্রীতির গল্প এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো চারঘাটে। দুর্গাপূজার সময় মুসলমান যুবকরা মন্দির পাহারা দেন, আর ঈদের সময় হিন্দু যুবকরা মসজিদের পাশে ভিড় সামলান।
‎
‎এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “পশ্চিম ঝিকরার এই চিত্র সারা বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ। উৎসব কখনো একা পালন করা যায় না। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই উৎসব সুন্দর হয়। এখানকার মানুষ সেটা প্রমাণ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা এই সম্প্রীতি অটুট রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করব।”
‎
‎স্থানীয় প্রবীণরা বলছেন, রাজনৈতিক বিভেদ অনেক জায়গায় সম্প্রীতি নষ্ট করলেও এই গ্রামে ধর্ম কখনো বিভেদের কারণ হয়নি। একই আঙিনায় দুটি উপাসনালয় শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির প্রতীক।


Post Views: 5

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7