Dhaka ০৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মায় ক্ষতিগ্রস্ত মাঝিদের পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ Time View






স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরের টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মা নদীতে হঠাৎ বড় ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তীরবর্তী মাঝি ও জেলেরা। বুধবার রাতে আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হওয়া বড় ঢেউয়ে একটি নৌকা ভেসে গেছে, একটি নৌকা তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম। নৌকা রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন এক দম্পতি।

শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে টি-বাঁধ এলাকার পদ্মায় হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। এরপর বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়তে থাকে। এতে বাঁধা নৌকাগুলো প্রচণ্ডভাবে দুলতে শুরু করে। একপর্যায়ে একটি নৌকা ভেসে যায় এবং আরেকটি নৌকা তলিয়ে যায়। নৌকায় থাকা মাছ ধরার জালসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও নষ্ট হয়।

স্থানীয় মাঝি শাহজামালের নৌকা ভেসে যাওয়া ঠেকাতে গিয়ে আহত হন রিমোন হোসেন ও তাঁর স্ত্রী। নৌকার ধাক্কায় রিমোনের পা ভেঙে যায়। পরে তাঁকে চিকিৎসা নিতে হয়। বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

রিমোন হোসেন বলেন, ‘পায়ের এই অবস্থায় কোনো কাজ করতে পারছি না। সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছিলাম না। আজ ডিসি স্যার নিজে এসে পরিবারের জন্য এক মাসের খাবার ও চিকিৎসার নগদ টাকা দিয়েছেন। এই বিপদে এটি আমাদের বড় ভরসা।’

নিজের নৌকা রক্ষায় সহায়তা করায় রিমোন দম্পতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শাহজামাল মাঝি। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ এত বড় ঢেউ উঠবে, কল্পনাও করিনি। ডিসি স্যার এসে আমাদের কষ্টের কথা শুনেছেন, দুঃসময়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন—এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’

এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জারজিস মাঝি। তাঁর একমাত্র নৌকাটি জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ পদ্মায় তলিয়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

জারজিস মাঝি বলেন, ‘সর্বনাশা পদ্মার ঢেউ এক রাতেই আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এই নৌকাই ছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র পথ। তবে ডিসি স্যার খোঁজ নিয়ে খাবার ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ায় অনেক উপকার হয়েছে।’

শনিবার সকালে টি-বাঁধের বটতলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতের হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক খোঁজখবর নিতে এসেছি। তাদের খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পবা উপজেলার মধ্যচরে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


Post Views: 17

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পদ্মায় ক্ষতিগ্রস্ত মাঝিদের পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক

Update Time : ০১:০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬






স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরের টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মা নদীতে হঠাৎ বড় ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তীরবর্তী মাঝি ও জেলেরা। বুধবার রাতে আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হওয়া বড় ঢেউয়ে একটি নৌকা ভেসে গেছে, একটি নৌকা তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম। নৌকা রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন এক দম্পতি।

শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে টি-বাঁধ এলাকার পদ্মায় হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। এরপর বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়তে থাকে। এতে বাঁধা নৌকাগুলো প্রচণ্ডভাবে দুলতে শুরু করে। একপর্যায়ে একটি নৌকা ভেসে যায় এবং আরেকটি নৌকা তলিয়ে যায়। নৌকায় থাকা মাছ ধরার জালসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও নষ্ট হয়।

স্থানীয় মাঝি শাহজামালের নৌকা ভেসে যাওয়া ঠেকাতে গিয়ে আহত হন রিমোন হোসেন ও তাঁর স্ত্রী। নৌকার ধাক্কায় রিমোনের পা ভেঙে যায়। পরে তাঁকে চিকিৎসা নিতে হয়। বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

রিমোন হোসেন বলেন, ‘পায়ের এই অবস্থায় কোনো কাজ করতে পারছি না। সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছিলাম না। আজ ডিসি স্যার নিজে এসে পরিবারের জন্য এক মাসের খাবার ও চিকিৎসার নগদ টাকা দিয়েছেন। এই বিপদে এটি আমাদের বড় ভরসা।’

নিজের নৌকা রক্ষায় সহায়তা করায় রিমোন দম্পতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শাহজামাল মাঝি। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ এত বড় ঢেউ উঠবে, কল্পনাও করিনি। ডিসি স্যার এসে আমাদের কষ্টের কথা শুনেছেন, দুঃসময়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন—এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’

এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জারজিস মাঝি। তাঁর একমাত্র নৌকাটি জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ পদ্মায় তলিয়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

জারজিস মাঝি বলেন, ‘সর্বনাশা পদ্মার ঢেউ এক রাতেই আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এই নৌকাই ছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র পথ। তবে ডিসি স্যার খোঁজ নিয়ে খাবার ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ায় অনেক উপকার হয়েছে।’

শনিবার সকালে টি-বাঁধের বটতলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতের হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক খোঁজখবর নিতে এসেছি। তাদের খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পবা উপজেলার মধ্যচরে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


Post Views: 17

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।

Bangla Photocard Generatorv3.7